• বরানগরে আক্রান্তের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানির মামলা, ব্যবসায়ীকে মার, বিক্ষোভে আটক বিজেপি কর্মীর মুক্তি
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুজো কমিটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বরানগরে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। পুলিশ সেই ঘটনার এক অভিযুক্তকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে থানায় আনতেই তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত বরানগর থানার সামনে বিক্ষোভের পাশাপাশি বি টি রোড অবরোধ করে বিজেপি। আন্দোলনের চাপে পুলিশ আটক বিজেপি কর্মীকে ছেড়ে দেয়। পরে ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত এক বিজেপি নেতার স্ত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত ব্যবসায়ী, তাঁর ভাগ্নে ও পুজো কমিটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে। 

    বরানগরের নিয়োগীপাড়া এম বি সরণিতে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মুদিখানার দোকান রয়েছে। তাঁর দোকানের পাশেই দর্জিপাড়া নিয়োগীপাড়া দুর্গোৎসব পুজো কমিটির মন্দির। তিনি ওই পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ। ২৭ বছর ধরে এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক চঞ্চল বিশ্বাস। এই পুজো কমিটির দখল নিয়েই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বিশ্বনাথবাবু ও চঞ্চলবাবুর ঝামেলা বাধে। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাঁরা মন্দিরের চাবি ছাড়াও পুজো কমিটির যাবতীয় নথিপত্র দিয়েও দেন। তারপরও বিশ্বনাথবাবুর দোকান বন্ধ রাখা ও চঞ্চলবাবুর কাছে কয়েক লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁরা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সজলবাবুর আশ্বাসেই ফের দোকান খুলেছিল। গত রবিবার রাতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর দোকানে লোকলস্কর নিয়ে চড়াও হয়। অভিযোগ, মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে বিশ্বনাথবাবুকে দোকান থেকে বার করে বেধড়ক মারা হয়। তাঁকে বাঁচাতে এলে তাঁর ভাগ্নে স্বর্ণেন্দুকেও মারধর করা হয়। 

    এই ঘটনায় মণ্ডল সভাপতি সহ সাতজনের নামে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বিজেপি কর্মী তথা মারধরে অভিযুক্ত দেবজ্যোতি নন্দীকে আটক করে থানায় তুলে আনলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন বিজেপি কর্মীরা। বরানগর থানায় এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। বি টি রোড অবরোধ করে দেওয়া হয়। তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। বি টি রোডে যানজট বাড়তে থাকলে আটক বিজেপি কর্মীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ব্যবসায়ীকে মারধরে অভিযুক্ত এক বিজেপি নেতার স্ত্রী ওই রাতে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্তদের বিরুদ্ধে। বিশ্বনাথবাবু বলেন, ‘পাড়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেই পুলিশ সত্যি-মিথ্যা জানতে পারবে। আমাদের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, ‘মন্দির দখল করে রাখা নিয়ে পাড়ার মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। ওরা আমাদের এক নেতার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে। পাড়ার লোক মাস পিটিশন জমা দিয়েছিল। ফের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মিথ্যা মামলায় বিজেপি কর্মীকে তুলে আনার প্রতিবাদে পাড়ার লোকই বিক্ষোভ দেখিয়েছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)