• আত্মীয়ের রংচটা বাড়িই টুলুর ‘সেফ হাউস’, দেখতে ভিড়
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মহম্মদবাজার: সিউড়ি থেকে রামপুরহাট যাওয়ার পথেই পড়ে দেউচা বাসস্ট্যান্ড। তার ঠিক আগেই রাস্তার ডানদিকে একটি ভাংরির গোডাউন। যেখানে টিন আর ভাঙা লোহালক্কড় কেনাবেচা হয়। তার পাশেই দাঁড়িয়ে হলুদ রংচটা সাদামাটা দোতলা বাড়ি। অথচ বুধবার ভোররাত থেকে এই বাড়িটিই হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্যের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। দেউচার এই সাধারণ আস্তানা থেকেই কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ১৫কেজিরও বেশি চকচকে সোনার বিস্কুট উদ্ধারের ঘটনায় চোখ কপালে উঠেছে রাজ্যবাসীর।

    বুধবার ভোররাত সাড়ে ৩টেয় নিঃশব্দে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে ঘিরে ফেলেছিল এই বাড়িটি। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে তারা। আলমারি খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তদন্তকারীদের। তারপর থেকে রাত গড়ালেও টাকার বান্ডিল গোনা শেষ করা যায়নি। অভিযানে আসা এক পুলিশ আধিকারিকের স্বীকারোক্তি, ‘কর্মজীবনে এত বিপুল পরিমাণ টাকা একসঙ্গে কখনো চোখে দেখিনি!’

    এদিন সকাল গড়াতেই ওই বাড়ির বাইরে অনেকে ভিড় জমান। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে ভিড় কিছুটা ফাঁকা করে। আবার পরক্ষণেই কৌতূহলী চোখের সমাগম হয়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডল সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল আক্ষরিক অর্থেই অতীব ছাপোষা। সকালে থলি হাতে বাজারে যেতেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও সাধারণভাবে মিশতেন। কয়েক বছর আগে অতি সাদামাটাভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তেঁতুলিয়ার শেখ টগর বা প্রতিবেশী শেখ আনারুল বলেন, রোজ সাধারণের মতো ঘুরে ঘুরে বাজার করা লোকটার ঘর থেকে কোটি কোটি টাকা, আর কেজি কেজি সোনা বেরবে, তা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। এসব নিশ্চয়ই অন্য কারও টাকা।

    জেলা পুলিশের অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, এই বিপুল ধনরাশির প্রকৃত কারিগর আসলে বীরভূমের বালি-পাথর সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র মাফিয়া নিজামুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু। মিনার টুলুর আত্মীয়। অবসর গ্রহণের পর তিনি টুলুর অবৈধ কারবার সামলানোর দায়িত্ব পান। তদন্তকারীরা জানান, প্রথম জীবনে সাধারণ গৃহশিক্ষক থেকে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে কোটিপতি হয়েছেন টুলু। তার সিন্ডিকেটে নাকি ক্যাশ রাখার জায়গা কম পড়ত! নিজের কালো টাকা নিরাপদ রাখতে বিশ্বস্ত আত্মীয়ের বাড়িটি ‘সেফ হাউস’ বানিয়েছিলেন টুলু। এব্যাপারে টুলু মণ্ডলের ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশি ঘেরাটোপে থাকায় মিনারের পরিবারের কেউ কোনো কথা বলেননি। 

    রামপুরহাটের বিধায়ক বিজেপি ধ্রুব সাহা বলেন, এ তো হিমশৈলের চূড়ামাত্র! এই মহাম্মদবাজারে খোঁজাখুঁজি করলে এরকম আরও কোটি কোটি টাকা মিলবে। রাজ্যকে ভিখারি বানিয়ে রাজকোষ লুট করেছে এই মাফিয়ারা। প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (বর্তমান)