• ই-কেওয়াইসি নেই? গ্যাস কিনতে হবে প্রায় ১৭০০ টাকায়
    বর্তমান | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের ই-কেওয়া‌ইসি করানোর কথা বলে আসছে। কিন্তু গ্রাহকদের একটা বড়ো অংশ এখনও তা করায়নি। এমন গ্রাহকদের এবার রান্নার গ্যাসের ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হবে প্রায় ১৭০০ টাকা! কারণ, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি করা না থাকে, তাহলে তিনি ‘ডোমেস্টিক’ দরে সিলিন্ডার পাবেন না। অর্থাৎ, এই ধরনের সিলিন্ডারে সরকার যে ভরতুকি দেয়, তা আর মিলবে না। সিলিন্ডার কিনতে হবে বাজারদরে। কলকাতায় এখন গৃহস্থের ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দর ৯৬৮ টাকা। এখনও পর্যন্ত ওই সিলিন্ডারের কোনো ঘোষিত সরকারি বাজারদর নেই। তবে মনে করা হচ্ছে, ১ হাজার ৭০০ টাকার আশপাশে থাকতে পারে সেই দাম। সেই ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারই। গোটা দেশে উজ্জ্বলা যোজনা এবং সাধারণ গ্রাহক—সবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টে কোনো ভরতুকিও ঢুকবে না।

    কোনো কোনো ডিস্ট্রিবিউটরের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ গ্রাহকই ই-কেওয়াইসি করাননি। উজ্জ্বলা যোজনায় ই-কেওয়াইসির হার তুলনামূলক ভালো। ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে যাঁর নামে সিলিন্ডার, তিনি নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাকেন না। তাই ই-কেওয়াইসি হয়নি। আবার অনেক গ্যাস সংযোগ চালু আছে, কিন্তু মূল গ্রাহক মারা গিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর নামেই গ্যাস নিচ্ছেন এখনও। এছাড়াও ই-কেওয়াইসি না করানোর পিছনে নানা কারণ আছে। আগে গ্যাস সংস্থাগুলি জানিয়েছিল, ই-কেওয়াসি না থাকলেও সিলিন্ডার ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ভরতুকির কোনো টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। কলকাতার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই ভরতুকি প্রায় ১৯ টাকা। উজ্জ্বলা যোজনার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা। সেই সিদ্ধান্ত থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি সরে এসে আরও কঠিন পদক্ষেপ করতে চলেছে বলেই জানিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা।

    ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে দেশে এলপিজি বিক্রিতে রাশ টেনেছে কেন্দ্র। তারপরও তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন বড়ো অঙ্কের লোকসান করছে। সেই ক্ষতিতে লাগাম পরাতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সংসদের চলতি অধিবেশনেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দিল্লিতে যে ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের দর ৯৪২ টাকা, তার প্রকৃত বাজারদর হওয়া উচিত ১ হাজার ৬৯৫ টাকা। বাদবাকি টাকা সরকার ভরতুকি দেয়। অর্থাৎ, সরকার ভরতুকি তুলে দিলে সিলিন্ডার পিছু সেই দর ১ হাজার ৭০০ টাকার আশপাশে হতে পারে। অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিজনবিহারী বিশ্বাস বলেন, ‘ডেলিভারি ম্যানরা আগেও ই-কেওয়াইসি নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করেছেন। গ্রাহক নিজেও অ্যাপের মাধ্যমে বাড়িতে বসে এই কাজ করতে পারেন। ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে এলেও এই কাজ করা যাবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)