• ১৯১১-এর অমর জয়, ২০২০-এর নতুন অধ্যায়— মোহনবাগানের গর্বের ২৯ জুলাই উদযাপন এ বার দু’দিন ধরে
    এই সময় | ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে ২৯ জুলাই শুধু একটি তারিখ নয়, এটি গর্ব, আবেগ এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ১৯১১ সালের এই দিনেই মোহনবাগান (Mohun Bagan) খালি পায়ে খেলেও ব্রিটিশদের হারিয়ে IFA শিল্ড জিতে ইতিহাস গড়েছিল। আবার ২০২০ সালের ২৯ জুলাই ক্লাবের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। তাই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে এই দিনটি শুধুই স্মৃতির নয়, ঐতিহ্য ও নতুন পথচলারও প্রতীক। মোহনবাগান দিবসে ক্লাব ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

    ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান। খালি পায়ে খেলেই শিবদাস ভাদুড়ী, অভিলাষ ঘোষদের দল অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। সেই সময়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই জয়। অনেকের মতে, এই সাফল্য স্বাধীনতা আন্দোলনের মনোবলও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই ১৯১১ সালের সেই ম্যাচ শুধু ফুটবলের ইতিহাস নয়, ভারতের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ১০৯ বছর পরে একই দিনে মোহনবাগানের ইতিহাসে আরও একটি বড় ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালের ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে মোহনবাগান ও ATK-এর সংযুক্তিকরণের ঘোষণা করা হয়।

    এর ফলে দেশের শীর্ষ লিগে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করে ক্লাব। তবে নামের সঙ্গে ‘ATK’ যুক্ত হওয়ায় সমর্থকদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সেই দাবি মেনে ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

    এ বারও মোহনবাগান দিবসে ক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আবহ। সকাল থেকেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে মোহনবাগান মাঠ। প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলারদের উপস্থিতিতে যেন ফিরে আসে পুরনো দিনের স্মৃতি। ক্লাব চত্বরে ছিল আবেগ, স্মৃতিচারণ এবং উদযাপনের এক অনন্য মেলবন্ধন। বিভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলার ও সমর্থকদের মিলনমেলায় মোহনবাগান দিবস আবারও প্রমাণ করে দেয়, এই ক্লাব শুধুমাত্র একটি ফুটবল দল নয়, কোটি সমর্থকের আবেগের নাম।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি বলেন, ‘১৯১১ সালে খালি পায়ে খেলেও ব্রিটিশদের হারিয়ে যে ইতিহাস গড়েছিল মোহনবাগান, তা শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের গর্ব। সেই জয় ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল এবং স্বাধীনতার লড়াইয়েও অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। আজও মোহনবাগানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখায়। সমর্থকদের এই আবেগ ও ভালোবাসা সত্যিই অনন্য।’

    অন্যদিকে, মোহনবাগান দিবস উপলক্ষে ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, ‘গর্বের ২৯ জুলাই। মোহনবাগান দিবসে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জয় মোহনবাগান।’ তাঁর এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মধ্যে। প্রতি বছরের মতো এ বারও ইতিহাস, গর্ব এবং আবেগকে সঙ্গে নিয়েই পালিত হলো মোহনবাগান দিবস।

    এ বারের মোহনবাগান দিবস হবে দু’দিন ধরে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘মোহনবাগান রত্ন’ প্রদান অনুষ্ঠান। এ বার রত্ন সম্মান পাচ্ছেন প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্র। মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘যাঁর হাত ধরে এই মোহনবাগান রত্ন পুরস্কার চালু হয়েছিল, তাঁকেই এ বার সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।’

    বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। থাকবেন অন্যান্য মন্ত্রীরাও। জয়তী চক্রবর্তী ও মুম্বইয়ের শিল্পী সুদেশ ভোঁসলের গানের অনুষ্ঠান রয়েছে।

    FAQ

    প্রশ্ন: ২৯ জুলাইকে মোহনবাগান দিবস বলা হয় কেন?
    উত্তর: ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় অর্জনের স্মরণে দিনটি মোহনবাগান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

    প্রশ্ন: ফাইনালে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ কারা ছিল?
    উত্তর: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট।

    প্রশ্ন: ২০২০ সালের ২৯ জুলাই কী ঘটেছিল?
    উত্তর: ওই দিন মোহনবাগান ও ATK-এর সংযুক্তিকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল।

    প্রশ্ন: বর্তমানে ক্লাবের নাম কী?
    উত্তর: মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

    প্রশ্ন: মোহনবাগান দিবসে কী বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী?
    উত্তর: তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘জয় মোহনবাগান’ বার্তা দিয়েছেন।

    ২৯ জুলাই মোহনবাগানের কাছে শুধু স্মৃতির দিন নয়, এটি গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক জয় থেকে আধুনিক যুগের নতুন পথচলা— দুই প্রজন্মের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে একসঙ্গে ধারণ করে এই দিন। তাই প্রতি বছর ২৯ জুলাই এলেই আবেগে ভাসেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।
  • Link to this news (এই সময়)