• তারাতলা কাণ্ডে কড়া শাস্তি পুরসভার, ৩ জনের লাইসেন্স বাতিল
    প্রতিদিন | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মান গুদামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্থপতি (আর্কিটেক্ট), পরিকল্পনাকারী ও নকশাবিদকে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিল করল রাজ‌্য সরকার। বুধবার সরকারের তরফে কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, ‘‘তারাতলা কাণ্ডের তদন্তে নির্মানাধীন গুদামের স্থপতি অর্থাৎ আর্কিটেক্ট সুপ্রতিম চৌধুরি এবং তাঁর দুই সহযোগী রূপক বন্দ্যোপাধ‌্যায় ও শান্তনু দত্তর লাইসেন্স বাতিল করার পাশাপাশি তাঁদের সংস্থাকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হল। শুধু কলকাতা পুরসভা নয়, রাজ্যের কোনও পুরসভা বা পঞ্চায়েত এলাকাতেও এই অভিযুক্ত তিনজন স্থপতি হিসাবে কাজ করতে পারবেন না।’’

    তারাতলা কাণ্ডের পরদিনই বিধানসভায় স্বয়ং মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, “তারাতলায় ভেঙে পড়া গোডাউন নির্মানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদকে কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, ডিজাইনার, তাদের প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই অনুমোদিত প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী। তারা কাজটি তত্ত্বাবধান করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু তারাতলার ক্ষেত্রে কোনো তত্ত্বাবধান ছিল না। তাই আমরা আজ থেকে স্থপতি ও ডিজাইনারকে কালো তালিকাভুক্ত করছি।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ বা নকশাবিদ এমন নির্মানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই মতো স্থপতি (আর্কিটেক্ট), পরিকল্পনাকারী ও নকশাবিদকে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিল করল রাজ‌্য সরকার। 

    গত ২৪ জুন দুুপুরে আচমকাই তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন। সেই সময় কাজ চলছিল। ফলে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ। নামানো হয় সেনা। একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হলেও অনেককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তারাতলা কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)