জলের ব্যবসায়ী থেকে তৃণমূল কাউন্সিলর! দেবরাজ ঘনিষ্ঠ ‘কোটিপতি’র বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা
প্রতিদিন | ৩০ জুলাই ২০২৬
আয় বহির্ভুত মামলায় আগেই তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবার স্ক্যানারে তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা বিনু! জলের ব্যবসা করে উত্থান। তৃণমূলের টিকিটে হন কাউন্সিলর। অভিযোগ, মাত্র কয়েকবছরেই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি মালিক হয়ে ওঠেন বিনু। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই ইডি তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হল মামলা। আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে।
মামলাকারী আইনজীবী সৈকত দাসের অভিযোগ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিনু মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে প্রায় ৩৫টি সম্পত্তির মালিক। রাজারহাট, নিউটাউন, বীরভূমে তাঁদের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। সৈকত দাসের কথায়, রাজনীতিতে আসার আগে বিনু শুধুমাত্র একটা জলের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এখন বিপুল টাকার সম্পতি। তাঁর অভিযোগ, ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বিনু তাঁর কায়দাতেই সম্পত্তি এবং নির্মাণ ব্যবসা করেছেন। এলাকার নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। দলের ব্যানারে কালো টাকাও খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ সৈকত দাসের।
এখানেই শেষ নয়, বিনুর দাপট রাজারহাট-নিউটাউন ছাড়াও রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকায় ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ওই আসনের বিধায়ক ছিলেন দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সি। মামলায় আবেদন, এই দুর্নীতির সঙ্গে আর কোনও তৃণমূল নেতার যোগ আছে তা ইডি তদন্ত করুক। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে। তবে গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিনু ও তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। বলে রাখা প্রয়োজন, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসে। মোটা অঙ্কের টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ধৃত তৃণমূল নেতা সরান বলেও অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে এই সংক্রান্ত মামলায় জেল হেফাজতে দেবরাজ।