উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আলি ইমরান রামজ ভিক্টরকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। পালটা অধীরকে একহাত নিলেন ভিক্টরের স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি। একজন বধূ নির্যাতনকারীকে কীভাবে সমর্থন, প্রশ্ন তাঁর।
অধীরের উদ্দেশে প্রিয়াঞ্জলির একটাই প্রশ্ন, “অধীরদা আপনার মেয়ে আছে, আমার বয়সি। আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে, দুই ছেলেকে রাস্তায় ফেলে রেখেছে। আপনার যদি মেয়ে থাকত, নাতি, নাতনিদের সঙ্গে এমন ঘটত। তাহলেও কী এমন সমর্থন করতেন? আপনি ওঁর পাশে দাঁড়াতেন?” প্রিয়াঞ্জলি আরও বলেন, “আপনার এই পদক্ষেপে খুব দুঃখিত। কষ্ট পেয়েছি আমরা।” যদিও এই প্রসঙ্গে পালটা অধীররঞ্জন চৌধুরীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বলে রাখা ভালো, ২০১০ সালে বাড়ির অমতে প্রিয়াঞ্জলি ও ভিক্টরের বিয়ে। ধীরে ধীরে তাঁর ‘বদমেজাজি চরিত্র’ সামনে আসতে থাকে বলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁর স্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, “প্রথম সন্তান ধারণের দেড় মাসের মাথায় সামান্য ঝগড়া, কথা কাটাকাটি থেকে পেটে ঘুষি মারে। সন্তান নষ্ট হয়। ধীরে ধীরে পণের জন্য চাপ, সামান্য কথায় ঝগড়া, মারধর বাড়তে থাকে।” ভিক্টর ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ফিনাইল খাইয়ে মারার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। শেষে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করায় সেই মামলাও তোলার চাপ দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রামজ ওরফে ‘ভিক্টর’-এর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ জানিয়ে রাহুল গান্ধীর দ্বারস্থও হয়েছিলেন। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। ভোটের আগেই ভিক্টরকে বহিষ্কারের আর্জিও জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। বর্তমানে দল থেকেই বহিষ্কৃত আলি ইমরান রামজ ভিক্টর।