রাজ্যে পালাবদলের পরে বদলে গেল সিঙ্গুর (Singur) কৃষি মান্ডির নাম। তৃণমূল আমলে ওই মান্ডি সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের ‘শহিদ’ তাপসী মালিকের নামে ছিল। প্রসঙ্গত ‘তাপসী মালিক কৃষক বাজার’ নাম দিয়েছিলেন খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপির আমলে সেই নাম বদলে গেল। নতুন নাম হয়েছে সিঙ্গুর কৃষক বাজার। এই নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। নামবদলের ঘটনায় ব্যথিত তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক।
সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছিল সেসময় বামফ্রন্ট সরকারকে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাষিদের হয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছিলেন। টাটা কারখানা না করেই রাজ্য ছেড়ে চলে যায়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের হাত ধরে বামেদের হারিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসে বলেও মত ওয়াকিবহাল মহলের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৃণমূল সরকার বাম আমলে শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দেয়। সিঙ্গুরে গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের স্বরূপ হিসাবে মমতা ২০১৪ সালে সিঙ্গুরের ওই কৃষক বাজারের নাম রেখেছিলেন তাপসী মালিকের নামে। নীল সাদা বোর্ডে ওই নাম এতকাল জ্বলজ্বল করছিল। অতি সম্প্রতি সেটি খুলে নতুন বোর্ড লাগানো হয়েছে। লাল-সাদায় লেখা সিঙ্গুর কৃষক বাজার।
এলাকার বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস বলেন, “সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। আগামী দিনে আরও হবে। সিঙ্গুরের মানুষ এই নাম পরিবর্তন নিয়ে কোনও প্রতিবাদ করেনি।” তাঁর দাবি, “সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা লাভ করেছিল। বিত্তবান হয়েছে। সিঙ্গুরের মানুষ গরিব হয়েছে। ওই আন্দোলনের ফলে সিঙ্গুরের অবনমন হয়েছে। সেজন্যেই সিঙ্গুরের মানুষ এই পরিবর্তন করেছে।” স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি তাপসী মালিককে নিয়েও রাজনীতি করল। তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক জানিয়েছেন, ঘটনায় তিনি ব্যথিত। তাঁর কথায়, “এই নামটা বদল করা ঠিক হয়নি। মনে আঘাত তো লাগবেই।”