• শ্রাবণের শুরুতেই ঢাকের বাদ্যি, মহিষমর্দিনীর পুজোয় 'ফেস্টিভ মুডে' কালনা
    News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • শ্রাবণের আকাশে উৎসবের আবহ। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে কালনার ঐতিহ্যবাহী মা মহিষমর্দিনীর পুজো। জেলার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে গোটা কালনা শহর। ভোর থেকেই মন্দিরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, আর চারদিকে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে শহর। প্রতি বছর শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি থেকে টানা চার দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই পুজো।

    দুর্গাপুজোর মত আশ্বিন মাসে নয়, শ্রাবণ মাসেই দেবী মহিষমর্দিনীর আরাধনা হওয়ায় এই পুজোর রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী মায়ের দর্শনে আসেন। অনেকেই নদীতে পবিত্র স্নান সেরে দণ্ডী কেটে মন্দিরে পৌঁছে পুজো দেন এবং মানত পূরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ সাহা বলেন, “অনেক পুরনো পুজো, ছোট থেকে আমরা দেখে আসছি। এটা আমাদের কালনার অনেক ঐতিয্যবাহী একটা পুজো। পুজোর কয়েকদিন আমরা খুব আনন্দ করে দিন কাটায়।”

    পুজোর নানা প্রাচীন রীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। চণ্ডীপাঠ, ভোগারতি, ধুনো পোড়ানো-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। দেবী এখানে দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজিতা হন এবং দুই পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া। ঐতিহ্য মেনে আজও পুজোর সংকল্প করা হয় বর্ধমান রাজ পরিবারের নামে এবং পরে পালচৌধুরী পরিবারের নামে। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এই পুজোকে কেন্দ্র করে কালনার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনমেলাও গড়ে ওঠে।

    বাড়ি ফেরেন বহু মানুষ, নতুন পোশাক কেনাকাটা থেকে শুরু করে পারিবারিক মিলন, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। চার দিনের পুজো শেষ হলেও মন্দির চত্বরে বসা ঐতিহ্যবাহী মেলা আরও ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে চলে, যেখানে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ।শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজো আজও কালনার গর্ব। ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং লোকসংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধনে মা মহিষমর্দিনীর এই উৎসব প্রতি বছরই অগণিত ভক্ত ও দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)