মিনার মণ্ডলের বাড়িতে যেন টাকার ‘মিনার’! এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১৫ কেজি সোনাও। কিন্তু তল্লাশি শেষ হয়নি। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে টাকা গোনা শুরু হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটতে চলল। বুধবার রাতেও জারি অভিযান। বীরভূমের ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিনারের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে জেনারেটর। লাগানো হয়েছে হ্যালোজেন। রাতভর তল্লাশি চলতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
কয়েক বছর আগেও সরকারি বাসের চালক ছিলেন মিনার মণ্ডল। পরে সে সব ছেড়ে পাথরখাদানের ব্যবসায় নামেন। তবে তাঁর আরও একটা পরিচয় রয়েছে। অভিযোগ, তিনি অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বোনের স্বামী। কয়লা ও গোরু পাচার মামলার অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তারক্ষী সায়গল হোসেনকে জেরা করার সময়ে টুলুর নাম উঠে এসেছিল। তবে টুলু এখন কেন এখন কোথায়, কেউ জানে না। মিনারের হদিশও সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না কেউ। এই নিয়ে মুখ খোলেনি পুলিশও।
মঙ্গলবার গভীর রাতে মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বুধবার সকালে ঢোকে টাকা গোনার মেশিন, একাধিক ট্রাঙ্ক। এর পরেই জানা যায়, কোটি কোটি নগদ টাকা মিলেছে মিনারের বাড়ি থেকে। সেই তল্লাশি এখনও চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছে গোটা বাড়ি। নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেনারেটর। বসানো হয়েছে হ্যালোজেন লাইট। ব্যবস্থা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের অনুমান, রাতভর তল্লাশি অভিযান চলতে পারে। সেই সময় যাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়, বাইরে পর্যাপ্ত আলো থাকে, তার জন্যই আঁটসাঁট ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগেও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) বাসচালক ছিলেন মনির। তবে বছর চারেক আগে স্বেচ্ছাবসর নেন। অভিযোগ, তার পরেই হাত মেলান টুলু মণ্ডলের সঙ্গে। টুলু মণ্ডল ইজারা নিয়ে যে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) গেট পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ। তার মধ্যে মিনার রায়পুরের ডিসিআর গেটের দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মিনারের বাড়ি থেকে শেষ পর্যন্ত কত টাকা উদ্ধার হবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কেউ বলছেন, ২০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে, আবার কারও মতে, কম করে ২৫ কোটি তো হবেই। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘এই ধরনের লোকেরা বেহিসাবি কালো টাকা কামিয়ে রেখেছে। টাকা গুনতে মেশিন লাগছে, ট্রাঙ্ক নিয়ে আসতে হচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি একসময় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি)-র বাসচালক ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার পর টুলু মণ্ডলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন বলে অভিযোগ।
মিনার মণ্ডল অনুব্রত ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বোনের স্বামী।
তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সঠিক অঙ্ক এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থলে টাকা গোনার মেশিন, একাধিক ট্রাঙ্ক, জেনারেটর এবং হ্যালোজেন লাইট নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় টাকা গোনা ও নথিভুক্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই কারণেই রাতভর তল্লাশির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ, তিনি টুলু মণ্ডলের ইজারা নেওয়া রায়পুর ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) গেটের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এখনও সরকারি কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় মহলে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা উদ্ধারের জল্পনা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও অঙ্ক নিশ্চিত করা হয়নি।