• বৃষ্টিতে ভেস্তে যাচ্ছে সমুদ্র-ছুটি, হোটেলবন্দি দিঘার পর্যটকেরা, কবে কাটবে অপেক্ষা?
    এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • নিম্নচাপের জেরে একটানা বৃষ্টি। উত্তাল সমুদ্র। তার জেরেই ব্যাপক ছন্দপতন ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র সৈকতগুলিতে। দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুরে বেড়াতে এসেও সারাদিন হোটেলবন্দি হয়ে কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন পর্যটকরা। অবিরাম বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ার জেরে সমুদ্রে নামা তো দূর অস্ত, হোটেল থেকে বের হওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে ভারী বর্ষণ। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে উপকূলবর্তী এলাকা এবং সমুদ্র সৈকতগুলিতে।

    আকাশের সঙ্গে পর্যটকদেরও মুখভার। দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর এবং শঙ্করপুরের সমুদ্রে অযথা ভিড় না করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রের জল অনেকটা ভিতরে চলে এসেছে। ফলে সমুদ্রে নামা বা দীর্ঘক্ষণ সৈকতে সময় কাটানোর সুযোগ মিলছে না পর্যটকদের। সব মিলিয়ে মনের আনন্দে ক’টা দিন বেড়ানোর দফারফা।

    পর্যটকদের অধিকাংশ সময়ই কাটছে হোটেলের ঘরে। স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলিতে ঘোরাঘুরি থেকে সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি কিংবা সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার পরিকল্পনাও বাতিল করতে হয়েছে। সব পর্যটনকেন্দ্রগুলিতেই কমবেশি হতাশার একই ছবি।

    তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে বৃষ্টির দাপট কমতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কাটলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পর্যটকেরা আবার স্বাভাবিক ভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

    ১. কেন দিঘা-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় এমন পরিস্থিতি?

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এর জেরেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে।

    ২. কোন কোন পর্যটনকেন্দ্র সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত?

    দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমণি ও তাজপুরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।

    ৩. পর্যটকদের কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে?

    অবিরাম বৃষ্টি ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে তাঁরা হোটেলবন্দি। সমুদ্রে নামা, সৈকতে হাঁটা বা স্থানীয় দর্শনীয় স্থান ঘোরা সম্ভব হচ্ছে না।

    ৪. প্রশাসন কী নির্দেশ দিয়েছে?

    পর্যটকদের অযথা সমুদ্রসৈকতে ভিড় না করার এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ৫. সমুদ্র কেন বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে?

    জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা ভিতরে চলে এসেছে। পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইছে।

    ৬. আবহাওয়া কবে থেকে উন্নতি হতে পারে?

    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে বৃষ্টির দাপট কমতে পারে এবং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৭. পর্যটকেরা কবে স্বাভাবিকভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন?

    বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলে পর্যটকেরা আবার স্বাভাবিকভাবে সমুদ্রসৈকতে যেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)