• ‘অরাজনৈতিক আরশোলা’কে কোটি টাকা সিব্বলের! ধর্মতলার দুষ্কৃতীদের হয়ে বিক্ষোভ-হুঁশিয়ারি
    প্রতিদিন | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • তাদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু তারপরও নাছোড়। নতুন করে ফের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুধু তাই নয়, গত শুক্রবার ধর্মতলায় ‘আরশোলা’ বিক্ষোভের নামে যারা ভাঙচুর চালাল, পুলিশ-সাংবাদিকদের নিগ্রহ করল সেই দুষ্কৃতীদেরই পাশে দাঁড়াল সিজেপি। অন্যদিকে, তারা তাদের ‘দলে’র একটি তহবিল গঠন করার কথাও জানিয়েছে। আর এই ‘অরাজনৈতিক আরশোলা’কে ১ কোটি টাকা দান করার ঘোষণা করেছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কপিল সিব্বল।

    সোমবার বিকেলে সিব্বলকে পাশে নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ‘ককরোচ’রা। সেখানে ‘ককরোচ’ মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে তাদের যে ‘চুক্তি’ হয়েছিল, তা সরকার নিজেই ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, “আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছিল, তা লঙ্ঘন হয়েছে। বিহার- বাংলায় শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যেও বহু ছাত্রছত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।” এরপরই সিব্বল বলেন, “গোটা আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। অসম, বাংলা, বিহার মহারাষ্ট্র বহু জায়গায় পথে নেমেছিল ছাত্র-যুবরা। আমরা চাই তাঁদের বিরুদ্ধে যেন কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। যেখানে যেখানে ছাত্ররা পথে নেমেছিল, যদি সেখানে কারও বিরুদ্ধে (আন্দোলনকারী) কোনও মামলা হয়, তাহলে আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “গোটা পরিকাঠামোর জন্য একটি তহবিল গঠন করছে সিজেপি। যেখানে যেখানে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেখানে আমাদের আইনজীবীরা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে। যা খরচা হবে এই তহবিল থেকেই তা করা হবে।”

    কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের বক্তব্য, এই তহবিলে বেআইনিভাবে যে বিদেশি অনুদান আসবে না, তার দায় কে নেবে? কারণ, অতীতে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, ফরেন কন্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রেগুলেশন আইন (এফসিআরএ) ভেঙে বিভিন্ন সংগঠন বা ট্রাস্ট বেআইনিভাবে বিদেশি অনুদান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, তথাকথিত তহবিল গঠনের ফলে ‘ককরোচ’রা যে আদতে ভারত-বিরোধী শক্তিগুলির দ্বারা পরিকল্পিত একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, সেই তত্ত্বও জোরালো হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, সিজেপি বারবার নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু তাদের পাশে আজ সিব্বলকে দেখা গেল, যিনি একজন কংগ্রেস নেতা। তাহলে কি তলে তলে সিজেপি-কে ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস? ‘আরশোলা’দের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টায় হাত শিবির? উঠছে প্রশ্ন।

    এদিকে গত শুক্রবার কলকাতায় মিছিল শেষে ‘ককরোচ’দের ‘জঙ্গিপনা’র ছবিই চোখে পড়েছে। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো-জলের বোতল। পালটা আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। তাতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ। এনিয়ে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। আন্দোলনের নামে এহেন অরাজকতা সৃষ্টি কি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে সম্ভব? তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এগুলি ‘বহিরাগত’দের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে সেই দুষ্কৃতীদেরই পাশে দাঁড়াল ‘ককরোচ’রা। তারা জানিয়ে দিল, আন্দোলনকারীরা সবাই শিক্ষার্থী। তবে পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে একটি শব্দও শোনা গেল না ‘আরশোলা’দের মুখে।   
  • Link to this news (প্রতিদিন)