শখে মডেলিং, ফটোগ্রাফারের কুপ্রস্তাবে নারাজ স্কুল শিক্ষিকাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা
বর্তমান | ২৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। শখে অল্পবিস্তর মডেলিংও করেন। সেই সূত্রেই আলাপ জয়দীপ দেওয়ানের সঙ্গে। পেশায় ফটোগ্রাফার। তরুণীর প্রেমে পড়েন জয়দীপ। শুরু হয় পিছু নেওয়া। এরপর বিভিন্ন কুপ্রস্তাব। খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব এড়িয়ে যান বিবাহিতা ওই তরুণী। কিন্তু এর ফল হল মারাত্মক। শিয়ালদহ স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। ভাগ্যের জোরে প্রাণে বাঁচেন ওই শিক্ষিকা। কিন্তু ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। নির্যাতিতা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তরুণীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলাকে অনুসরণ করা, অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে শিয়ালদহ জিআরপি। খোঁজ চলছে অভিযুক্তের।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তরুণী মধ্য কলকাতার বাসিন্দা। ক্যানিংয়ে একটি স্কুলে মিউজিকের শিক্ষিকা। এর সঙ্গে শখে মডেলিং করেন। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে তাঁর ছবি বেরিয়েছে। ফটোগ্রাফি সংক্রান্ত একটি কনফারেন্সে জয়দীপের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ফটোগ্রাফি ও মডেলিং সংক্রান্ত কাজের আলোচনা করতে তরুণীর বাড়িতেও এসেছিলেন বজবজের বাসিন্দা জয়দীপ। সেই সূত্রে শিক্ষিকার স্বামীও চিনতেন তাঁকে। রেল পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে ক্যানিং লোকাল ধরে স্কুলে যান ওই শিক্ষিকা। একই পথে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। ওই যুবক কাজের অছিলায় শিক্ষিকার সঙ্গে ক্যানিং পর্যন্ত যেতেন। বিষয়টি প্রথমে হালকাভাবে নিয়েছিলেন নির্যাতিতা। কিছুদিন পর স্বমূর্তি ধারণ করেন যুবক। প্রেমের প্রস্তাবের পাশাপাশি বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু হয়। ভয় দেখানো হয়, তাঁকে বিয়ে না করলে বড়োসড়ো ক্ষতি করে দেবেন। এমনকি মহিলার স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবেন। ছুটির সময়ও তাঁর স্কুলে চলে যেতেন অভিযুক্ত। ট্রেনে ফেরার সময় বিভিন্নভাবে বিরক্ত করা হয় তাঁকে। একা যাতায়াত করায় বিষয়টি নিয়ে কোথাও অভিযোগ করার সাহস দেখাননি তরুণী। কিন্তু বারবার একই ঘটনা ঘটায় বেলেঘাটা থানায় তিনি একটি ডায়েরি করেন। তারপরেও তাঁর পিছু ছাড়েননি অভিযুক্ত। বিভিন্ন রকম কুপ্রস্তাব পাঠাতে থাকেন ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে।
রেল পুলিশ জেনেছে, গত ১ জুলাই শিক্ষিকা স্কুলে যাওয়ার জন্য ২০ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যানিং লোকালের মহিলায় কামরায় ওঠেন। পিছু নেন অভিযুক্তও। তাঁকে জোর করে মহিলা কামরা থেকে নামিয়ে জেনারেল বগিতে তোলেন। তরুণীর বাধা সত্ত্বেও মোবাইল কেড়ে নেন। অভিযোগ, ট্রেন ছেড়ে দিলে শিক্ষিকাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন অভিযুক্ত। ওই তরুণী ছিটকে চলন্ত ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে পড়েন। বরাত জোরে রেল লাইনে পড়েননি। লাফ দিয়ে নেমে মহিলাকে মোবাইল দিয়ে পালান অভিযুক্ত। যাত্রীরা রেল পুলিশে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার করে শিক্ষিকাকে। স্বামী এসে তাঁকে নিয়ে যান হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছে।
এতকিছুর পরেও তিনি অভিযোগ দায়ের করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু ফের কুপ্রস্তাব দিয়ে তাঁকে ভয়েস মেসেজ পাঠান অভিযুক্ত। অবশেষে ২১ জুলাই তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। রেল পুলিশও দ্রুততার সঙ্গে কেস রুজু করে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে গোটা ঘটনা জেনেছে তারা। চিহ্নিত করা হয়েছে অভিযুক্তকে। তাঁর খোঁজ চলছে।