• মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় উপকূলরক্ষী বাহিনী, দিঘা-শংকরপুরে থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা দলও, ঘোষণা শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার’ মেশিন বসানোর উপরে জোর দিয়েছে মৎস্য দপ্তর। এবার সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের সাহায্য নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজনে উপকূল এলাকায় কন্ট্রোল রুম তৈরির কথাও জানান তিনি। শুধু তাই নয়, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং কোস্টাল থানাগুলিকেও উন্নত করা হবে বলে জানান তিনি।

    গত ২ জুলাই, শংকরপুর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন মৎস্যজীবীরা। গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হন ১৫ জন। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের দেহ উদ্ধার হয়। আজ, রবিবার মৃতদের পরিবারগুলিকে পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থসাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের আরও যাতে সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয়, তা নিয়েও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী।

    এরপরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ”আর কি সুরক্ষা প্রদান করা যায়, সে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলাম। প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে গাইডেন্স নেওয়া হবে। শুধু উন্নত প্রযুক্তি দিলেই তো হবে না। প্রয়োজন কন্ট্রোল রুম।” এই বিষয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগের সরকার এই বিষয়ে কিছুই করেনি। তবে এই সরকার করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”কোস্টাল থানাগুলি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনও লোকজন নেই। নেই পুলিশের আধুনিক সরঞ্জাম।” তবে দক্ষ পুলিশ আগামিদিনে কোস্টাল থানাগুলিকে দেওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।

    পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকেও ঢেলে সাজানোর কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারাতলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ”তারাতলার দুর্ঘটনার পর স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স তৈরি করছি। কলকাতায় একটা টিম থাকবে। এছাড়াও পাহাড়, সুন্দরবনেও একটা টিম থাকবে।” এছাড়াও দিঘাতেও স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের ৫০ জনের একটি দল থাকবে বলে ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ”এই দপ্তর আমার হাতে আছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং ডিজিকে দিয়ে দেব, যাতে দিঘা, শংকরপুরেও এই ফোর্সের ৫০ জনের একটি দল আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি থাকে।” হঠাৎ প্রয়োজনে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব হয় সেই কারণেই এহেন পদক্ষেপ বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বলে রাখা প্রয়োজন, ওই দুর্ঘটনার পরই ট্রলারগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার’ মেশিন বসানোর উপরে জোর দিয়েছে মৎস্য দপ্তর। ট্রান্সপন্ডার হল ওয়‍্যারলেস ট্র্যাকিং ডিভাইস। যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ট্রলারে বসানো এই যন্ত্রের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

    ট্রান্সপন্ডার মেশিনের মাধ্যমে সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নজরদারি করা সম্ভব। পাশাপাশি সমুদ্রের কোন অংশে বেশি বা কম মাছ আছে কিংবা কচ্ছপের অবস্থান আছে সেই তথ্যও জানতে পারবেন মৎস্যজীবীরা। দিঘা-মোহানা উপকূলে দেড় হাজারের বেশি লঞ্চ ও ট্রলার রয়েছে। এখনও পর্যন্ত শঙ্করপুর ও দিঘার দুশোর বেশি ট্রলারে এই মেশিন বসানো হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)