সমুদ্রে ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পুনর্বাসনে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারগুলিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর শোকাহত পরিবারগুলির তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার বা স্থানীয় প্রশাসনে কাজের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ট্রলারগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার’ মেশিন বসানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি উপকূল এলাকায় কন্ট্রোল রুম খোলার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং কোস্টাল থানাগুলিকে আরও উন্নত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত ২ জুলাই শংকরপুর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন মৎস্যজীবীরা। সমুদ্রে ট্রলার ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হন ১৫ জন। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মিশন বাৎসল্য প্রকল্পের আওতায় অনাথ শিশুদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার জন্য মাসে ৪,০০০ টাকা করে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার আওতায় আনা হবে। গৃহহীন পরিবারগুলিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’য় নতুন ঘর বরাদ্দ করা হবে। কোস্টাল থানাগুলি তৈরি হলেও সেখানে কোনও লোকজন নেই। নেই পুলিশের আধুনিক সরঞ্জাম। তাই সেগুলি দ্রুত ঠিক করা হবে।’
উপকূলের নিরাপত্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থায় আগের তৃণমূল সরকার যে কাজ করেনি তা নিয়ে সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাতলায় দুর্ঘটনার পর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ‘মৎস্যজীবীদের দুর্দশার মূলে তৃণমূল সরকার। মৎস্যজীবীদের কথা ভাবে না ওরা। তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এই প্রথম রাজ্য সরকার মৎস্যজীবীদের কথা ভেবেছে। তাদের পাশে থেকেছে। আগামী দিনেও তাদের সমস্যা দূর করার জন্য ৫০ জনের একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। তারাই সমুদ্র উপকূল জুড়ে নজরদারির পাশাপাশি তাদের সমস্যার কথা শুনে তা দূর করবে। প্রাক্তন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দের আমলে মৎস্যদপ্তর বলে কিছু জানা যেতো। তার পর মৎস্য দপ্তর আছে বলে কেউ জানতেন না। আমরা চেস্টা করছি মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সমস্যা থেকে মোহনার ড্রেজিং-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করতে। আমরা নোনা এলাকার বাসিন্দা। আমরা মৎস্যজীবীদের দুর্দশার কথা জানি। তাই তাদের পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।’
রাজ্য সরকার নিজস্ব ‘স্টেট ডিসেস্টার রেসপন্স ফোর্স’ ঢেলে সাজাচ্ছ বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক তথ্য দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘তারাতলায় দুর্ঘটনার পর স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স তৈরি করছি। কলকাতায় একটা টিম থাকবে। পাহাড়, সুন্দরবনেও একটা টিম থাকবে। এই দপ্তর আমার হাতে আছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং ডিজিকে দিয়ে দেব। যাতে দিঘা, শংকরপুরেও এই ফোর্সের ৫০ জনের একটি দল আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি থাকে। খেজুরি, হিজলি থেকে উদয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত মোহনা এবং উপকূল এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে দিঘায় ৫০ জনের একটি বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হচ্ছে।’