কালনার বুকে 'কার্গিল মেমোরিয়াল', আত্মত্যাগের ইতিহাস এবার বইয়ের পাতায়! চোখ ভিজল সবার
News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া কারগিলের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার কোয়ালডাঙায় অবস্থিত কারগিল স্মৃতিসৌধে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল কারগিল বিজয় দিবস। দেশপ্রেমের আবহে রবিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদ বেদিতে মাল্যদান, নীরবতা পালন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৫২৭ জন বীরকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও বহু সাধারণ মানুষ।
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কারগিল যুদ্ধের বীর যোদ্ধা সুবেদার নরেশ চন্দ্র দাসের লেখা ‘কারগিল হিরোজ’ বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দি এই তিন ভাষায় প্রকাশিত বইটিতে কারগিল যুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পরমবীর চক্র, মহাবীর চক্র ও বীর চক্র প্রাপ্ত সেনাদের জীবনসংগ্রাম, বীরত্ব এবং আত্মত্যাগের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ালডাঙা গ্রামের প্রবেশপথে নির্মিত কারগিল ওয়ার মেমোরিয়াল গেটওয়ে বা স্মৃতি তোরণেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিনেতা জয় অনুভব বলেন, “কারগিলের শহিদদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলার নয়।
তাঁদের ত্যাগকে স্মরণ করা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। ভারতীয় সেনাবাহিনী বারবার প্রমাণ করেছে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা সর্বদা আপসহীন। এই স্মৃতিসৌধ সেই বীরদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার প্রতীক।” অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ও কারগিল যুদ্ধের বীর যোদ্ধা সুবেদার নরেশ চন্দ্র দাস জানান, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন ৫২৭ জন সেনা। তাঁদের আত্মবলিদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই স্মৃতিসৌধ এবং বিভিন্ন স্মারক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, “ভারতের উল্লেখযোগ্য কারগিল স্মৃতিসৌধগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। এখানে আসা প্রতিটি মানুষ শহিদদের বীরত্বের ইতিহাস জানুক, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার কোয়ালডাঙায় অবস্থিত এই কারগিল স্মৃতিসৌধ প্রতি বছর কারগিল বিজয় দিবসে দেশপ্রেমের অনন্য কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এবারের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবী সুব্রত পাল, শংকর হালদার, কালনা মহকুমার এসডিপিও সুমন দাস-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে শহিদ সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দেশপ্রেম, ঐক্য এবং আত্মত্যাগের বার্তা আরও একবার নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।