• শিলাদিত্য করের উপর হামলা, হাসপাতাল থেকে বিধানসভা—প্রতিটি পর্যায়ে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন এই সময় ডিজিটাল-এর এডিটর শিলাদিত্য কর-সহ একাধিক সাংবাদিক। ঘটনার পরপরই আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন তিনি। তাঁর নির্দেশের পর তদন্তে গতি এনে রাজ্যের সদ্য কার্যকর গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগে শনিবার রাত পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ এখন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।

    এক নজরে

    সাংবাদিক নিগ্রহে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    সাংবাদিকের কাজ হল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরা। শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, সেই সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ আচমকাই সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়।

    লাইভ সম্প্রচারের সময়ে এলোপাথাড়ি মারধরের শিকার হন এই সময় ডিজিটাল-এর এডিটর শিলাদিত্য কর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় আহত হন আরও কয়েকজন সাংবাদিক।

    ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

    শুক্রবার বিকেল | ডোরিনা ক্রসিংয়ে হামলা

    লাইভ সম্প্রচারের সময়ে শিলাদিত্য করকে ঘিরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই আক্রান্ত হন আরও কয়েকজন সংবাদকর্মী। পরে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    শুক্রবার রাত | হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী

    ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলাদিত্য করের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পরবর্তীতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং রাজ্যের আইন প্রতিমন্ত্রীও। আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    শনিবার | বিধানসভায় কড়া বার্তা

    পরদিন বিধানসভায় ধর্মতলার ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তিনি জানান, হেয়ার স্ট্রিট এবং এন্টালি থানায় মিলিয়ে মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আহত ছয় সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—

    - শিলাদিত্য কর

    - দীপঙ্কর দাশগুপ্ত

    - মানস পাত্র

    - সুমন মহাপাত্র

    - ঋক পুরকায়স্থ

    - কৃষ্ণেন্দু মজুমদার

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে।

    ৭০ জন চিহ্নিত, কড়া হুঁশিয়ারি

    বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এমন কিছু ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল, যাদের সঙ্গে মূল আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক ছিল না।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সাংবাদিকদের উপর হামলা কিংবা আন্দোলনের নামে গুন্ডামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগ

    শনিবার রাত পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রেই রাজ্যে সদ্য কার্যকর গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগ হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ফলে ধর্মতলার সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনাটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, নতুন আইনের বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।

    কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ?

    ধর্মতলার এই ঘটনা কয়েকটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—

    - সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ।

    - আহত সাংবাদিকদের দেখতে ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে যাওয়া।

    - বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আক্রান্ত সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ করে কড়া অবস্থান নেওয়া।

    - সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    - রাজ্যে প্রথমবার গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগ।

    এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে ঘটনাটি রাজ্যের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে।

    ধর্মতলায় কোন সাংবাদিক হামলার শিকার হন?

    এই সময় ডিজিটালের এডিটর শিলাদিত্য কর-সহ মোট ছয়জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন।

    মুখ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

    ঘটনার রাতেই হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন। পরদিন বিধানসভায় ঘটনার নিন্দা করে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

    কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    শনিবার রাত পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গুন্ডাদমন আইন কেন আলোচনায়?

    ধর্মতলার এই ঘটনাতেই রাজ্যে প্রথমবার গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

    ধর্মতলার সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা শুধু সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হাসপাতাল থেকে বিধানসভা, তদন্ত থেকে গ্রেপ্তার—পুরো ঘটনাক্রমে প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ আলোচনায় এসেছে। শিলাদিত্য করের উপর হামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রথমবার গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগ হওয়ায় ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং আইনের প্রয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)