• মুখোশের আড়ালে প্রতিবাদী সুর, পড়ুয়াদের সঙ্গে হাঁটলেন নাগরিক সমাজও
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • অর্ক দে, কলকাতা: কেউ ‘ব্যাটম্যান’, কেউ আবার ‘মানি হাইটস’ কিংবা ‘স্কেলিটন’-এর মাস্ক পরে এসেছে। এরা সকলেই ‘জেন জি’, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভ্যস্ত নেট স্যাবি, কোথায় কী হচ্ছে, কেন গোটা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল, কেন তাঁরা রাজপথে আন্দোলনে, কার ইস্তফা চাই-সবাটাই তাদের ঠোঁটস্থ। নানা রকমের মুখোশের আড়ালে সেই পড়ুয়াদের গলায় প্রতিবাদের দৃপ্ত সুর। ‘মানি হাইটস’-এর ‘অ্যানোনিমাস’ মাস্ক বা ‘হাল্ক’-মুখওয়ালা মুখোশ পড়ে মিছিলে ‘অভিনবত্ব’ এনেছে ‘জেন জি’রা। তাদের মুখে মুখে নানা ছন্দে বাংলা-হিন্দি স্লোগানে মুখরিত হয়েছে আন্দোলন-মিছিল। আর সেই মিছিলে পা মিলিয়ে নাগরিক সমাজও। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কেউ দিয়েছেন হাততালি, কেউ আবার ‘থামস আপ’ দেখিয়ে উজ্জীবিত করেছেন প্রতিবাদীদের। 

    শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মিছিলের ডাক দিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র-যুবরা। অন্যদিকে, একই ইস্যুতে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা ছিল এ রাজ্যের ককরোচ জনতা পার্টিরও। কিন্তু, তাঁরা পুলিশি অনুমোদন পায়নি। শেষে শিয়ালদহের বামেদের প্রতিবাদ মিছিলেই তাঁরা শামিল হন। এর বাইরেও শহর-শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তের প্রচুর পড়ুয়ারাও স্বতঃফূর্তভাবে মিছিলে অংশ নেন। নাচে-গানে-ডিজে বাজিয়ে স্লোগান-প্রতিবাদের নতুন সংজ্ঞা এদিন দেখল কলকাতা। যেখানে ‘জেন জি’র স্লোগানের ভাষা চয়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে, আন্দোলনের আবেগ কিংবা আজকালকার ভাষায় ‘ভাইবস’ ছিল তুঙ্গে। সেখানে ছিল না কোনো খাদ! দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘শেষ’ করে দিয়েছে বিজেপি। তার জন্য দরকার ‘দাওয়াই’, তাই এই প্রতিবাদ হওয়ার দরকার, মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে বলছিলেন বালিগঞ্জের বাসিন্দা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের এক পড়ুয়া। নৈহাটি থেকে নিজের ক্লাস সেভেনের ছেলেকে নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন এক ব্যাক্তি। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে সেই বাচ্চার গায়ে সাদা টি শার্টে লেখা, ‘মোদি তুমি দুষ্টু লোক, তোমার এখন ছুটি হোক’। ভবানীপুর কলেজের পড়ুয়া গুরবাণী কৌর হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে। তাতে লেখা, ‘সাড্ডা হক, অ্যাথে রক!’ কিংবা কারও হাতে পোস্টারে লেখা ‘মেলোডি খাও, বাচ্চো কা ফিউচার নেহি’—এমনই টুকরো টুকরো ছবি ছিল গোটা প্রতিবাদ মিছিলজুড়ে। সন্ধ্যায় ধর্মতলা মোড়ে একদল আন্দোলনকারী পুলিশকে মাঝখানে রেখে আচমকাই জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু করেন। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত গোটা মিছিলকে রাস্তার দু’পাশ থেকে লোকজন ‘চিয়ার’ করেছে। কেউ ছবি তুলছেন। বয়স্করা আবার হাত তুলে ‘জেন জি’কে আর্শীবাদ জানিয়েছেন। পড়ুয়ারা ছাড়াও তাদের ‘ভরসা’ দিতে মিছিলে পা মেলান অন্যান্য পেশার নাগরিকরা। হকার থেকে শুরু করে দোকানদাররা আবার জলের বোতল, জুস বিলিয়েছেন মিছিলে। ধর্মতলায় এসে সেই আন্দোলনকারীরা আবার নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করা র‌্যাপ সং বাজিয়ে দাপিয়ে নেচেছেন। সবমিলিয়ে তিলোত্তমা পেয়েছে আন্দোলনের নতুন সংজ্ঞা! 
  • Link to this news (বর্তমান)