জঙ্গলমহলের ‘লাইফ লাইন’কে ফোর লেনের প্রস্তাব বিধায়কের
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া-দুর্গাপুর ৯ নম্বর রাজ্য সড়ককে চার লেনের করার প্রস্তাব পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের কাছে জমা দিয়েছেন বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা। দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত চার লেনের ওই সড়ক যাতে দ্রুত নির্মাণ করা যায়, তারজন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সড়কের মাঝে বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড়ে উড়ালপুল তৈরির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। চার লেনের রাস্তা হলে মাঝে ডিভাইডার থাকবে। তার ফলে মোট রাস্তার জায়গা অনেকটা সম্প্রসারিত হবে। তারজন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে বলে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন। ওই রাজ্য সড়কের দু’পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বনাঞ্চল রয়েছে। সেখানে হাতির করিডরও রয়েছে। এখন সহজেই হাতির পাল রাস্তা পারাপার করতে পারে। রাস্তা চার লেনের হলে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পাবে। তখন হাতির করিডরের কী হবে? তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। হাতির করিডরে সাবওয়ে বা আন্ডারপাস তৈরি করা যায় কি না তা নিয়ে বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন।
বিল্বেশ্বরবাবু বলেন, দিনদিন ৯ নম্বর রাজ্য সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বড়জোড়া-মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন নতুন কলকারখানা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী দিনে ওই শিল্পাঞ্চল দ্বিতীয় দুর্গাপুর হয়ে উঠতে পারে। তারজন্য যোগাযোগ পরিকাঠামো উন্নত করা প্রয়োজন। সেই কারণে রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। ওই সড়ক বড়জোড়াকে বাঁকুড়া ও দুর্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে তা চার লেনের হলে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।
বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক জঙ্গলমহলের অন্যতম ‘লাইফ লাইন’ বলে পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা বাঁকুড়াকে পশ্চিম বর্ধমানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শিল্পশহর দুর্গাপুরের সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগ রক্ষা করে চলা ওই রাস্তা গত কয়েকবছরে অনেকটা চওড়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত সেটি দুই লেনেরই রয়ে গিয়েছে। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সেটি চার লেনের করা প্রয়োজন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে। ওই রাস্তাটি বেলিয়াতোড় ও বড়জোড়া বাজারের উপর দিয়ে গিয়েছে। বেলিয়াতোড় থেকে সোনামুখী-পাত্রসায়র হয়ে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। ফলে বাঁকুড়া-বর্ধমান রুটের অনেক বাস এবং পণ্যবাহী বহু যানবাহন ওই মোড় হয়ে চলাচল করে। বড়জোড়া বাজার থেকেই আবার দুর্লভপুর শিল্প করিডর শুরু হয়েছে। ওই রাস্তার দু’পাশে একাধিক কলকারখানা ও কয়লাখনি রয়েছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়েও পণ্যবাহী ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসও সেখান দিয়ে যাতায়াত করে। যানজটে দু’টি রাস্তাতেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কখনো কখনো তা তিন-চার কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায় বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। উড়ালপুল তৈরি হলে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাঁকুড়া থেকে দুর্গাপুর কম সময়ে যাতায়াত করা যাবে। তাতে সকলেরই উপকার হবে। অবিলম্বে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাবিত ড্রয়িং।