ময়না কলেজ: যৌননিগ্রহে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ অধরা, নোটিস পেয়ে থানায় ৪ জন অধ্যাপক
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: যৌন নিগ্রহে অভিযুক্ত ময়না কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ পণ্ডা এখনও অধরা। ওই মামলায় পাঁচজন অধ্যাপককে নোটিস পাঠানোর পর শুক্রবার চারজন থানায় হাজির হন। তদন্তকারী আধিকারিক গুরুপদ শ্যামল তাঁদের বয়ান নথিভুক্ত করেন। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ কলেজে যাচ্ছেন না। ফলে কলেজে ডামাডোল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষর অনুপস্থিতিতে ২১ ও ২২জুলাই অধ্যাপক সমীর মণ্ডল ইনচার্জ হিসেবে ছিলেন। তারপর তিনি ওই দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় ২৩তারিখ থেকে অধ্যাপক দিগন্ত ঘোষ ইনচার্জ রয়েছেন।
ময়না থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার দিগন্তবাবু সহ পাঁচ অধ্যাপককে থানায় হাজির হওয়ার নোটিস দেয়। সেইমতো শুক্রবার চারজন অধ্যাপক থানায় যান। শুক্রবার নোটিস পাওয়া একজন কলেজে না আসায় থানায় যাননি।প্রসঙ্গত, ১৭জুলাই ময়না কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কলেজেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী এই অভিযোগ করেছেন। তারপর সপ্তাহ ঘুরলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। তিনদিন ধরে সকাল ১০টা নাগাদ অধ্যক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের অনুপস্থিতির কথা জানাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তাঁর জায়গায় কে ইনচার্জ থাকবেন, সেটাও বলে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে।এই মুহূর্তে কলেজে গভর্নিংবডি নেই। প্রশাসক হিসেবে আছেন পাবলিক ইনস্ট্রাকশন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়। ময়না কলেজের খবর তাঁর কাছেও পৌঁছেছে। কলেজের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ চাইছে, তাড়াতাড়ি অচলাবস্থার অবসান হোক। কলেজ আর্থিক সংকটে রয়েছে। অস্থায়ী কর্মীরা জানুয়ারি মাসে শেষবারের মতো মাইনে পেয়েছেন।
বিজেপির ময়না বিধানসভার কনভেনর গৌতম গুরু বলেন, আমাদের সরকার নারী সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর। ময়না কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যি হলে আইনানুগ পদক্ষেপ হওয়া উচিত।অধ্যক্ষ দিলীপবাবু ফোন ধরেননি। ময়না থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। কয়েকজনের বয়ান নেওয়া হয়েছে।