নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্কুলের বায়োলজির শিক্ষক। তিনি জামিন পাওয়ার পরই অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নাগাড়ে চাপ দেওয়া শুরু হয় ছাত্রীর পরিবারের উপর। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় শেষমেশ ওই পরিবারকে সামাজিক বয়কটের নিদান দেওয়া হয়েছে গ্রামের মানুষদের। এর পিছনে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আছে বলে দাবি নিগৃহীতার পরিবারের। এই ঘটনা পটাশপুর থানার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতশতমল গ্রামের। নিগৃহীতা ছাত্রীর বাবা বলেন, প্রতি মুহূর্তে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। এই গ্রামেই আমার শ্বশুরবাড়ি। গোটা গ্রামের মধ্যে একমাত্র শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান শাসক দলের কিছু লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, পটাশপুর থানার ইচ্ছাবাড়ি হাইস্কুলের বায়োলজির শিক্ষক তুহিনকান্তি ভুঁইয়া কালিকাদাঁড়ি গ্রামে ভাড়াবাড়িতে থাকেন। তাঁর বাড়ি কাঁথির মনোহরচক গ্রামে। ভাড়াবাড়িতে তিনি প্রাইভেট টিউশন পড়াতেন। সেই বাড়িতে স্কুলেরই একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেটে পড়ানোর নামে যৌন হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি ইচ্ছাবাড়ি স্কুলের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তারা ওই শিক্ষকের ক্লাস বয়কট শুরু করেন। সেইসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কাছে এ নিয়ে নালিশও জানান। কিন্তু, প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ।
গত ৩ জুলাই ওই ছাত্রীর মা পটাশপুর থানায় পসকো ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে বায়োলজির শিক্ষক তুহিনকান্তি ভুঁইয়ার পাশাপাশি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও অভিযুক্ত করা হয়। এফআইআর হতেই গ্রেপ্তার হন অভিযুক্ত বায়োলজির শিক্ষক। তারপর আদালত থেকে জামিনও পান। তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে বেশ হইচই হয়। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষও। এরই মধ্যে অভিযুক্তকে বাঁচাতে বিজেপি আসরে নামে বলে অভিযোগ। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য লাগাতার হুমকি ধমকি চলছে। তাতে কাজ না হওয়ায় এবার সরাসরি বয়কটের খাঁড়া। গ্রামের কোনো পরিবার নিগৃহীতা ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার নিগৃহীত ছাত্রী বাবা বলেন, ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে ভাড়াবাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় যৌন নিগ্রহ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমার স্ত্রী থানায় এফআইআর করেন। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। তারপর বর্তমান শাসক দলের লোকজন সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছে। আমরা কোনো অবস্থায় অভিযোগ তুলব না বলার পর পরিবারের উপর হেনস্তা আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। গোটা গ্রামের সঙ্গে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আমরা বর্তমানে এক অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি।
এনিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তুহিনকান্তি ভুঁইয়াকে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সত্যজিৎ নন্দগোস্বামী বলেন, একসময় আড়গোয়ালে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। নিগৃহীতা ছাত্রীর পরিবারকে বয়কট করার বিষয়টি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়।