শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড়, না মানলে বৃহত্তর আন্দোলন, ২৪ ঘণ্টা সময়ের আরজি কেন্দ্রের
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ৩৬ দিন নির্বিকার। আর গত চারদিনে দু’বার বৈঠক। কিন্তু ‘ককরোচ’দের এতটুকু টলাতে পারল না মোদি সরকার। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া কোনো আশ্বাস মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে প্রতিবাদীদের চ্যালেঞ্জ, ইস্তফার দাবি না মানলে আরও বড়োসড়ো আন্দোলন হবে। এমনকি যন্তরমন্তরের আন্দোলনেও যে কোনোরকম শৈথিল্য দেখানো হচ্ছে না, সেটাও ওই চত্বরে গিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আন্দোলনকারীদের এমন অনড় মনোভাবে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে কেন্দ্র। আর তাই ‘কোণঠাসা’ মোদি সরকার ককরোচ জনতা পার্টির কাছে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টা সময়ের আরজি জানিয়েছে।
এদিন দিল্লির যন্তরমন্তরের অদূরেই কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের জন্য বৈঠকে বসে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সিজেপি’র প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন। এসংক্রান্ত প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল গত ২০ জুলাই। দিল্লিতে নাড্ডার সরকারি বাসভবনেই। কিন্তু এবার প্রতিবাদী যুবরা শুরু থেকেই অনড় ছিল যে, হয় সরকারকে যন্তরমন্তরের ধরনামঞ্চে এসে বৈঠক করতে হবে। না হলে কোনো অরাজনৈতিক এবং নিরপেক্ষ স্থানে। সেই মতোই কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক চূড়ান্ত হয়। এদিন বৈঠকের পর নাড্ডা বলেন, ‘শনিবার বিকালে আমরা ফের বৈঠকে বসব। ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। ওরা যেসব দাবি জানিয়েছে, তার প্রতিটিই প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।’
বৈঠক সেরে যন্তরমন্তরের ধরনা মঞ্চে ফিরে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধানত তিনটি দাবি পেশ করেছেন। এক, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাঁকে বরখাস্ত করতে হবে। দুই, নিট দুর্নীতির শিকার যেসব পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং তিন, আন্দোলনকারী কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ এফআইআর করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই এফআইআর হলে তার প্রতিটি প্রত্যাহার করতে হবে। ‘ককরোচ’দের পক্ষে সৌরভ এবং আশুতোষ এদিন দাবি করেছেন, ‘শেষোক্ত দু’টি এজেন্ডা কেন্দ্র মেনে নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার বিষয়ে শনিবার সরকার আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।’ যদিও সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, সম্ভবত ইস্তফা দেবেন না ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরাও তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ‘ককরোচ’দের আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়বে। এমনিতেই সংসদ অচল। গত কয়েকদিন ধরে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে দিল্লি। শুক্রবারও মেট্রো থেকে ইন্টারনেট সব বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মানুষের হয়রানি ক্রমেই বাড়ছে। যন্তরমন্তরগামী ছাত্র-যুবদের আটকে পুলিশ বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে। দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’ ক্যামেরা বসিয়েছে পুলিশ। এর অন্যতম প্রধান কাজই হল, মুখ দেখে ‘অপরাধী’ এবং ‘দুষ্কৃতী’ চিহ্নিতকরণ!
কিন্তু প্রশ্ন হল, এতদিন পর সরকার ‘নমনীয়’ কেন? এনটিএর খোলনলচে বদল, সচিবকে সরানো, মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা নিয়ে ভাবনা... এই আন্দোলন না হলে কি এরা বহাল তবিয়তে থেকেই যেতেন? এতদিন তাহলে কীরকম তদন্ত হল? গোটা দেশ উত্তাল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা অথবা বরখাস্তের দাবিতেই আন্দোলন। অথচ সেটা নিয়ে মোদি সরকার নীরব। বিল আসছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট হচ্ছে। অথচ ধর্মেন্দ্র প্রধান থেকেই যাচ্ছেন। কেন?