• চাপে বদলি! নয়া শিক্ষা সচিব অভিযুক্ত ‘ভরতুকি’ দুর্নীতিতে
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: রাতদুপুরে জারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি! দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলনের চাপে বৃহস্পতিবার আচমকা কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব বিনীত যোশীকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই পদে আনা হয়েছে নরেশ পাল গাঙ্গোয়ারকে। রাজস্থান ক্যাডারের এই আইএএস অফিসারকে মৎস্যচাষ, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রক থেকে শিক্ষামন্ত্রকে আনা হয়েছে। তবে নিট কেলেঙ্কারির ধাক্কায় শিক্ষাসচিব পদে মুখ বদল করেও মুখরক্ষা হচ্ছে না মোদি সরকারের। কারণ, নয়া শিক্ষাসচিবের বিরুদ্ধেই শুক্রবার সরকারি ভরতুকির টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। একই অভিযোগে মোদি সরকারের মুণ্ডপাত করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও। গাঙ্গোয়ারের বিরুদ্ধে সরকারি পদের সুযোগ নিয়ে ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড থেকে পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার ভরতুকি বাগানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

    ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রে প্রথম প্রকাশিত একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে নয়া শিক্ষাসচিবের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। ওই প্রতিবেদনে একযোগে কেন্দ্রীয় কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী ও গাঙ্গোয়ারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হর্টিকালচার’ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেই নিজের পরিবার পরিচালিত ফার্মে শসা চাষের নামে ৯৯ লক্ষেরও বেশি টাকা ভরতুকি গ্রহণ করেছেন। একই অভিযোগ তোলা হয়েছে সচিব গাঙ্গোয়ারের বিরুদ্ধেও। মা, স্ত্রী ও পুত্রের নামে এই আইএএস অফিসার সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ভরতুকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। নতুন শিক্ষাসচিব হিসাবে এহেন গাঙ্গোয়ারের নাম ঘোষণা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এদিন মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিজিৎ দিপকে। যন্তরমন্তরের প্রতিবাদস্থল থেকে তাঁর তোপ, ‘দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিকেই পুরস্কৃত করছে সরকার। গতকাল রাতে শিক্ষাসচিবকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে পশুপালন দপ্তরের এমন একজন আইএএস অফিসারকে, যাঁর নামে বহু কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিট ঘিরে গোটা সংকটটিই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফল। একজন আমলার বিকল্প হিসাবে গুরুতর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আরও এক আমলাকে দায়িত্বে নিয়ে আসাটা দেশের যুব সমাজের সরাসরি অপমান। সরকার কি আমাদের কাছে এভাবে ‘আপস’ করার প্রত্যাশা রাখছে? এটাকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা বলে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’

    সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর তোপ, ‘পরিচ্ছন্ন মুখের আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার মতো লোক খুঁজে পাচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি। বিনীত যোশীকে রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষাসচিব পদে সরকার এমন বিকল্প বসাল, যাঁর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। নয়া শিক্ষাসচিব নরেশ পাল গাঙ্গোয়ার পশুপালন ও মৎস্যচাষ দপ্তরের সচিব থাকাকালীন তাঁর স্ত্রী, মা ও পুত্র সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ভরতুকি পেয়েছেন। এই সরকারে দুর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে পৌঁছে গিয়েছে।’   
  • Link to this news (বর্তমান)