প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan Resignation)। শনিবার তাঁর ইস্তফায় যন্তর মন্তরে উৎসবে মেতেছেন পড়ুয়ারা। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্রর কর্মজীবনের ভূয়সী প্রশংসায় সরকার। বিজেপিও পাশে দাঁড়িয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লিখলেন, ‘পড়ুয়াদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়।’ পাশাপাশি বার্তা দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও।
ইস্তফার পর শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্রর অবদানের প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লেখেন, দশকের পর দশক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। জনসেবা ও পড়ুয়াদের সার্বিক কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। রিজিজু আরও লেখেন, ‘তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার প্রত্যক্ষ হয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অসীম সংকল্পের প্রয়োজন। ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর দায়িত্ব প্রশংসনীয়ভাবে পালন করেছেন।’ মন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আপনার অবিচল সেবা, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার এবং শক্তিশালী ভারত গড়ার ক্ষেত্রে আপনার অবদানের জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধান আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করব, একই নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে জাতির সেবা করে যাবেন আপনি।’
প্রধানের প্রশংসা করে বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন লিখেছেন, ‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি যুগান্তকারী জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি ২০২০) সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আসলে তাঁর সততা ও নিঃস্বার্থ সেবার সর্বোচ্চ মানকে প্রতিফলিত করে। এই সিদ্ধান্তে দল শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানজির পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
উল্লেখ্য, ব্যাপক বিতর্কের জেরে শনিবার সকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠান। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় প্রধান লেখেন, “দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি।” তাঁর দাবি, “ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।”