আদালতের মধ্যেই ইভটিজিং যুবকের, জুতোপেটা করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন গৃহবধূ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ জুলাই ২০২৬
আদালতে এসেও রেহাই নেই। সেখানেও গৃহবধূকে ইভটিজিং করা হলো বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গেল আদালত চত্বরে। তবে ওই গৃহবধূও ভয়ে পিছিয়ে যাননি। বরং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভয়বাণীর উপর ভর করে রণংদেহী মেজাজে তেড়ে গেলেন ওই বধূ। আর পা থেকে জুতো খুলে দেদার পেটালেন ওই ইভটিজার যুবককে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। এটাই তাঁকে সাহস জোগায়। আর জুতোপেটা করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ওই যুবককে। কাটোয়া মহকুমা আদালতের অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমা আদালতে বিশেষ কাজে আসেন ওই গৃহবধূ এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। সেখানেই ওই বধূকে ইভটিজিং করে এক যুবক বলে অভিযোগ। আর তারই প্রতিবাদে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই ইভটিজারকে জুতোপেটা করলেন বধূ। তখন সেখান উপস্থিত বধূর স্বামীও ইভটিজারকে মারধর করেন। আদালত চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায়। আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্ত যুবক এবং বধূর স্বামীকে আটক করেন। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের। এরপর ওই বধূ কাটোয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিন দুপুরে নিজেদের কিছু কাজের প্রয়োজনে আদালতে এসেছিলেন কটোয়া থানার গাঁফুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ জবা ঘোষ। বধূর সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা নয়নাদেবী এবং স্বামী রাজেশ নন্দী। তিনজন যখন মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তখনই ওই যুবক ইভটিজিং করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ওই বধূর পাশেই ঘুর ঘুর করছিল কাটোয়া থানার লোহাপোতা গ্রামের বাসিন্দা কেবির হোসেন শেখ নামে যুবক। সেই বধূকে ইভটিজিং করে বলে অভিযোগ। তখন আদালত চত্বর এবং মহকুমাশাসকের অফিস চত্বরে বেশ ভিড় ছিল। সেই সুযোগেই ইভটিজিং করা হয় বধূকে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের কাজে ব্যস্ত থাকার সময়ই ইভটিজিং করে পালিয়ে যায় ওই ইভটিজার যুবক বলে অভিযোগ। তবে তাকে ধরে ফেলেন গৃহবধূ জবা।
একেবারে রণংদেহী মেজাজে ওই অভিযুক্ত ইভটিজার যুবকের জামার কলার চেপে ধরেন বধূ জবা। জুতো খুলে এলোপাথারি পেটাতে থাকেন। লোকজন ভিড় করে দেখেন ওই ঘটনা। জবাদেবীর স্বামীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে মারধর শুরু করেন! আদালত চত্বরে থাকা পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনা নিয়ে জবাদেবীর অভিযোগ, ‘অনেকক্ষণ ধরেই ওই যুবক আমার পিছু নিয়েছিল। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিল। তারপর আমার সঙ্গে অসভ্য আচরণ করার ফলে মারধর করেছি।’ যদিও ওই যুবকের সাফাই, কোনও খারাপ আচরণ সে করেনি। কাটোয়া থানার পুলিশ ওই অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে।