হাতে আসবে সরকারি সুবিধা! নতুন দিনের স্বপ্নে বসিরহাটের গামছা-তাঁত শিল্পীরা
News18 বাংলা | ২৫ জুলাই ২০২৬
: বসিরহাটে তাঁত শিল্পীদের বিশেষ কর্মশালা, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে উদ্যোগ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দীর্ঘদিন ধরেই গামছা ও তাঁত শিল্পের জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। বসিরহাটের নাম উচ্চারিত হলেই ভেসে ওঠে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের নকশা, গামছার স্বকীয়তা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা শিল্পীদের পরিশ্রমের ইতিহাস। এই শিল্প শুধু একটি পেশা নয়, বসিরহাটের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং আগামী দিনে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বসিরহাট চৌমাথায় আয়োজিত হল এক বিশেষ কর্মশালা। পশ্চিমবঙ্গ বস্ত্র উদ্যোগ কর্মচারী সংঘের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বসিরহাট মহকুমার ১০টি ব্লকের তাঁত শিল্পীদের নাম নথিভুক্ত করে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বস্ত্র উদ্যোগ কর্মচারী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় শিল্পীদের হাতে-কলমে বোঝানো হয়, কীভাবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যায় এবং আর্থিক সহায়তা পেয়ে উৎপাদন ও বিপণন আরও উন্নত করা সম্ভব। তাঁত শিল্পের আধুনিকীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, সমবায়ভিত্তিক কাজের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে তাঁত শিল্প ধীরে ধীরে সংকটের মুখে পড়েছিল। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারে প্রতিযোগিতা এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে বহু তাঁত ঘর কার্যত বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেক শিল্পী পেশা পরিবর্তন করতেও বাধ্য হন। ফলে বসিরহাটের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
কর্মশালায় উপস্থিত শিল্পীদের একাংশ জানান, সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকায় এতদিন তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার সরাসরি দফতরের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাঁরা আশাবাদী। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন তাঁরা। শিল্পী ও সংগঠকদের আশা, বর্তমানে রাজ্যে নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলিত উদ্যোগে বস্ত্র ও তাঁত শিল্প নতুন গতি পাবে। সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজারের সুযোগ বাড়লে বসিরহাটের গামছা ও তাঁত শিল্প আবারও আগের গৌরব ফিরে পাবে এবং হাজার হাজার শিল্পীর জীবনে সমৃদ্ধির নতুন দিশা খুলে যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।