বর্ষার মরশুমে উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক যশোর রোডে শতবর্ষী অতিক্রান্ত মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলিকে ঘিরে ফের বাড়ছে আতঙ্ক। একের পর এক দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং শুরু করেছে গাইঘাটা থানার ট্রাফিক পুলিশ। পেট্রাপোল থেকে কুলপুকুর পর্যন্ত যশোর রোডের বিভিন্ন এলাকায় এই গাছ আতঙ্কে, ট্রাফিক পুলিশের তরফে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। বিশেষ করে অটোচালকদের বিপজ্জনক গাছের নীচে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা না করানোর অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি পথচারীদেরও শুকনো বা ঝুঁকিপূর্ণ গাছের নীচে অযথা দাঁড়িয়ে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে।
বর্ষার বৃষ্টিতে শুকনো ডাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ায় যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেই সতর্ক করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি বনগাঁর সিকদারপল্লি এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। কয়েকদিন আগে কালুপুর এলাকায় একইভাবে গাছের ডাল ভেঙে গুরুতর জখম হন এক যুবক। এছাড়াও অতীতে চলন্ত অটোর উপর ডাল ভেঙে পড়ায়, দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ব্যবসায়ী আহত হওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিপজ্জনক গাছগুলির কোনও ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে সতর্ক থাকতেই হবে বলেই প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। তাই মাইকিং করে সকলকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের নীচ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেট্রাপোল থেকে কুলপুকুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশে, বিশেষ করে ধরমপুর ও কলাসিম বাজার এলাকায় বহু গাছ অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, যশোর রোড সম্প্রসারণের জন্য বারাসত থেকে বনগাঁ পর্যন্ত ৩০৫টি প্রাচীন গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরিবেশকর্মীদের আপত্তিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট গাছ কাটার অনুমতি দিলেও শর্ত দেয়, আগে দেড় হাজার নতুন গাছ রোপণ করতে হবে। তবে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার কারণে বহু মৃত ও শুকনো গাছ এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিবেশ প্রেমীরা অবশ্য বলছেন, বিপদজনক গাছের ডাল গুলিকে চিহ্নিত করে তা কেটে ফেলার পাশাপাশি নতুন গাছ লাগানোর কথা। যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত না হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই প্রাণহানির আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই যশোর রোডে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটা অথবা বিপজ্জনক ডালগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে কেটে ফেলার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। অনেকেই এদিন তাদের আতঙ্কের কথা তুলে ধরলেন।