নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বাম ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে জমায়েত করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করা হয়, মিছিল শেষে ধর্মতলায় পড়ুয়া সমাবেশও হয়। সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এ দিন আক্রান্ত হন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা। বিক্ষোভকারীদের একাংশের হাতে মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। মারধর করা হয়েছে এই সময় লাইভের এডিটর শিলাদিত্য করকেও।
ডোরিনা ক্রসিং থেকে লাইভ সম্প্রচারের সময়ে তাঁকে ঘিরে ধরে একদল যুবক হেনস্থা ও মারধর করে। ‘লুজ়ার, লুজ়ার’ বলে তাঁকে ঘিরে ধরে ওই যুবকের দল চড়াও হয়। জখম অবস্থায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিনের ঘটনায় নিগৃহীত অন্য সাংবাদিকরাও ভর্তি এসএসকেএম-এ। এ দিন রাতে সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএম-এ যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক এক করে সকলের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন তিনি।
গোটা ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাদের অ্যাসেট। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।’ মুখ্যমন্ত্রী এর পরে বলেন, ‘আজ পুলিশ অত্যন্ত সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে জখম সাংবাদিকদের ঠিক মতো চিকিৎসা করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের স্পষ্ট বলেন, ‘আক্রমণকারীদের আমরা চিহ্নিত করেছি। অপেক্ষা করুন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শুভেন্দু ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার যে রাস্তা ধরে এ দিন ককরোচদের মিছিল হয়েছিল সেখানেই তেরঙা যাত্রা করবেন বিজেপি কর্মীরা। শুভেন্দুর কথায়, ‘তমোঘ্ন ঘোষ, তাপস রায় এবং রিতেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে তেরঙা যাত্রা ওই একই রাস্তায় হবে। আজকে (শুক্রবার) সাত হাজার লোক নিয়ে মিছিল হয়েছিল, সোমবার ১৪ হাজার মানুষ নিয়ে আমরা মিছিল করব।’ যদিও ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে উত্তরবঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
এ দিকে, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বিবৃতি জারি করেছে কলকাতা প্রেস ক্লাব। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্দোলনের নােম টার্গেট রিপোর্টার ও চিত্রগ্রাহকরা। এটা খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা।’ যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পক্ষে। এ দিনের আন্দোলনের সঙ্গে হামলাকারীরা যুক্ত নয়।