রণক্ষেত্র ধর্মতলা। আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষে তুলকালাম ধর্মতলা। নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে উত্তাল ছাত্র সমাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা দেশে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছেন। ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের আঁচ এতটাই তীব্র যে, বৃহস্পতিবার মাঝ রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তা দিতে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ২৬ দিন পর বৃহস্পতিবার অনশন ভেঙেছেন সোনাম ওয়াংচুক। কিন্তু তারপরও ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলন’ থামার লক্ষণ নেই।
কলকাতাও সাক্ষী থাকলো সেই ছাত্র আন্দোলনের। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ও বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে শুক্রবার, ২৪ জুলাই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে হেঁটেছেন বহু পড়ুয়া। সঙ্গে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরাও। শিয়ালদহ থেকে দুপুর ৩টে ১০ মিনিটে মিছিল শুরু হয়।
পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে সেই আন্দোলনে অংশ নেন শহরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই দাবিতে শুক্রবার রাত জাগো কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠন।
পড়ুয়াদের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসই কেবল নয়, বারবার বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষাতেও এই ঘটনা ঘটছে। আর এই আবহেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের আরও অভিযোগ, ডোরিনা ক্রসিংয়ে আন্দোলনকারীদের রোখার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি চালায়। পাল্টা পুলিশকে জুতো, বোতল ছোড়ে আন্দোলনকারীরা। ওঠে 'চোর চোর' স্লোগানও। কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ধর্মতলা ডোরিনা ক্রসিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল সংখ্যক পুলিশ ফোর্স ও RAF মোতায়েন করা হয়েছে।