• আদালতে শুনানির অডিয়ো-ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট নয়, কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • আদালতে শুনানির অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং অনুমতি ছাড়া সমাজমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করা যাবে না। শুক্রবার এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত কোনও বিনোদনের চ্যানেল নয়, এই কথা বলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ার কোনও রেকর্ডিং বা ক্লিপ সমাজমাধ্যমে বা কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড, পোস্ট অথবা পুনরায় পোস্ট কিছুই করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুমতি দিতে পারে সেক্রেটারি জেনারেল। আর হাইকোর্টের ক্ষেত্রের রেজিস্ট্রার জেনারেল।

    আদালতে শুনানির রেকর্ডিং বা ক্লিপ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অনেকে টাকা রোজগার করেন। তাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালত আশ্বস্ত করেছে, এই নির্দেশ সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই নির্দেশকে কোনও ভাবেই সংবাদমাধ্যমের উপর ‘সেন্সরশিপ’ বা কণ্ঠরোধের আদেশ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আদালতে শুনানির সংক্ষিপ্ত অংশ কেটে নিয়ে কোনও কনটেক্সট অর্থাৎ প্রেক্ষিত ছাড়াই তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু বিচারব্যবস্থার মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না, বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসও ধাক্কা খাচ্ছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ঝুলি থেকে রাক্ষস বেরিয়ে পড়েছে ঠিকই। কিন্তু তার মানে তো এটা নয় যে, আমরা ছেড়ে দেব।’ আদালতের ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে মেটা, এক্স-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে নোটিসও ধরিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    এ বার থেকে আদালতের শুনানির লাইভ সম্প্রচার যাতে যে কেউ চাইলেই দেখতে না পারেন, সেই পথেও হাঁটছে সু্প্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি কেউ আদালতে শুনানির সরাসরি সম্প্রচার দেখতে চান, তবে তাঁকে আলাদা করে আবেদন করতে হবে।

    কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ইদানিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে বিচারপতি বা আইনজীবীদের বক্তব্য বিকৃত করে তা সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হয়। এই প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার প্রেক্ষিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, সমাজমাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, গত ২০ জুলাই (সংসদ অভিযানে) পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আর্জির জরুরি ভিত্তিতে শুনানি তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, অথচ এ ব্যাপারে কোনও মামলাই হয়নি। প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি পাতাও জমা পড়েনি। শুধু একটা চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কোনও রিট পিটিশন ছাড়া কী ভাবে শুনানি হবে? অথচ দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে খবর ছড়ানো শুরু হয়ে গেল।’

  • Link to this news (এই সময়)