অসুস্থ মেয়ের সঙ্গে আর দেখা হল না বাবার। হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেট আজ ফুলবাড়ির মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে এক অসমাপ্ত সাক্ষাতের করুণ গল্প। অসুস্থ মেয়েকে একবার দেখে আসবেন, সঙ্গে নিয়ে যাবেন তাঁর পছন্দের মিষ্টি। সেই ভাবনাতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ফুলবাড়ির ছবাভিটা এলাকার বাসিন্দা টুকরো মোহাম্মদ। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে অসুস্থ মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে রওনা দেন টুকরো মোহাম্মদ। মেয়ের জন্য তাঁর হাতে ছিল একটি মিষ্টির প্যাকেট। কিন্তু ফুলবাড়ি এলাকায় পৌঁছতেই একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। যে বাবা অসুস্থ মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে মিষ্টি নিয়ে বেরিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর নিথর দেহই বাড়ি ফিরে আসে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল করছে। দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী দ্রুতগতির যানবাহনের উপর কড়া নজরদারি, নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছেন। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, কোন গাড়ির ধাক্কায় এই মৃত্যু এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।