• ঘরজুড়ে ভগবান গণেশের সংসার, গুনতে গুনতে মাথা চক্কর কাটবে! আইনজীবীর কাণ্ড দেখুন
    News18 বাংলা | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • পরিবারের সদস্য ৫০০-রও বেশি গণেশ! হাবরার আইনজীবীর বাড়িতে অনন্য এই গণেশের সংরক্ষণ রীতিমতো তাক লাগাচ্ছে সকলকে। হাবরার প্রফুল্লনগরের এই বাড়িতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে যেন এক অন্য জগৎ। ঘরের দেওয়াল, আলমারি, শোকেস থেকে শুরু করে অফিসের প্রতিটি কোণ সবখানেই শুধু গণেশের উপস্থিতি। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ৫০০-রও বেশি গণেশ মূর্তি সংগ্রহ করে এক অনন্য নজির গড়েছেন আইনজীবী মলয় কংস বণিক।

    স্থানাভাবের কারণে বাড়ির পাশাপাশি তাঁর অফিসেও রাখা রয়েছে প্রায় ৫০টি গণেশ মূর্তি বলেও জানালেন। দীঘা সমুদ্রসৈকত থেকে একটি ছোট গণেশ মূর্তি সংগ্রহের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। তারপর ধীরে ধীরে তা পরিণত হয়েছে এক বিরল নেশায়। বর্তমানে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটান থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছে নানা ধরনের গণেশ মূর্তি। মাত্র ১০ টাকার ছোট মূর্তি থেকে শুরু করে সোনা, রুপো, পঞ্চধাতু, পিতল, টেরাকোটা, বাঁশের মূল, শুকনো নারকেল, পাথর, বিভিন্ন মসলা, এমনকী গাছের গুঁড়িতে বিশেষ শৈল্পিক ছোঁয়ায় ফুটে ওঠা গণেশও রয়েছে এই পরিবারের সংগ্রহে।

    রাগী গণেশ, শিশু গণেশ, বাদ্যকার গণেশ, খেলায় মত্ত গণেশ প্রতিটি মূর্তিই আলাদা বৈশিষ্ট্যে অনন্য। পরিবারের দাবি, একটি মূর্তির সঙ্গে অন্যটির কোনও মিল নেই। সেই কারণে প্রতিটি মূর্তির আলাদা পরিচয়ও মনে রাখতে হয় পরিবারের সদস্যদের। মলয় কংস বণিক জানান, এখন কোথাও বেড়াতে গেলেও তাঁর প্রথম লক্ষ্য থাকে নতুন ধরনের গণেশ মূর্তি খুঁজে বের করা। ভবিষ্যতে পুরো বাড়িটিকেই গণেশের নানা রূপে ভরে তোলাই তাঁর স্বপ্ন। এই সংগ্রহের নেশা ছড়িয়ে পড়েছে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও।

    মেয়ে সমইতা কংসবণিক জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার এই সংগ্রহ দেখে বড় হয়েছেন তিনি। বর্তমানে নিজেও গণেশের ছবি আঁকেন এবং নতুন নতুন মূর্তি সংগ্রহে বাবাকে সাহায্য করেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এই সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করতে নিয়মিত সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে হাবরার এই বাড়িতে বিরল গণেশ সংগ্রহ দেখতে আসছেন বহু কৌতূহলী মানুষ। এক ছাদের নিচে গণেশের এত বৈচিত্র্যময় রূপ দেখে বিস্মিত হচ্ছেন সকলেই।
  • Link to this news (News18 বাংলা)