মেয়ে ছোট থেকেই ঠাকুরভক্ত। কিন্তু কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পরে থেকে ঠাকুরভক্তিতেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন মা-বাবা। ঠাকুরনাম জপ করা, ধর্মগ্রন্থ পড়া— সারা দিন এ সব নিয়েই থাকতেন। তা হলে কি আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকেই কোথাও চলে গিয়েছেন মেয়ে অমৃতা সিনহা? এই ভাবনা থেকে এক বার তারাপীঠ শ্মশানে সারা রাত ধরে মেয়েকে খুঁজেছিলেন বাবা অর্ধেন্দু সিনহা। এ বার তাঁর গন্তব্য হলো মায়াপুরের ইসকন মন্দির।
গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ সিউড়ির বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। বীরভূম জেলা পুলিশ তাঁর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ এবং সিআইডি-রও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বাবা অর্ধেন্দুও নিজের মতো করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মেয়ের খোঁজ চালাচ্ছেন। তাঁর গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝোলে। তাতে অমৃতার ছবি, নাম-পরিচয় এবং দৈহিক গঠনের বর্ণনা লেখা। বৃহস্পতিবার সকালেও এই ভাবেই মায়াপুরে পৌঁছে যান অর্ধেন্দু এবং তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া। সেখানে কথা বলেন স্থানীয় হোটেল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ইসকনে আসা ভক্তদের সঙ্গেও কথা বলেন অর্ধেন্দু। অমৃতার ছবি দেখিয়ে জানতে চান, তাঁরা মেয়েকে কোথাও দেখেছেন কি না। পরে স্থানীয় থানাতেও যান বৃদ্ধ। পরে তিনি মায়াপুর থেকে যান নবদ্বীপের বিভিন্ন মন্দির-আশ্রমে।
অর্ধেন্দু বলেন, ‘মেয়ে অত্যন্ত ঠাকুর ভক্ত ছিল। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরে সারাদিন বাড়িতে বসে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়াই ওর কাজ ছিল। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ও হয়তো কোনও ধর্মীয় স্থানে রয়েছে। এর আগে তারাপীঠ-সহ বিভিন্ন মন্দিরে গিয়েছি। কিন্তু পাইনি। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়েই নবদ্বীপ-মায়াপুর গিয়েছি। ওখানকার মন্দির কমিটি, পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি। যাতে ওরা অমৃতাকে দেখতে পেলে আমায় খবর দেন।’
এর আগেও মেয়ের খোঁজে ধর্মীয় স্থানে গিয়েছিলেন অর্ধেন্দু। তার জন্য নানা সমস্যাতেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। দম্পতির থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার নামে নানা টোটকার বিনিময়ে টাকাপয়সা হাতানোর ছকও করা হয়। সেই ফাঁদে যদিও পা দেননি তাঁরা। আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অর্থেই কোনও রকমে তাঁদের সংসার চলছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ‘অসাধু’ চক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা।
রিপোর্টিং: ঋতভাস চট্টোপাধ্যায়