• খুঁটিপুজো হয়নি রথের দিন, দুর্গাপুজো নিয়ে সংশয়! আরতিতে আর কি দেখা যাবে না কল্যাণের কান্না?
    প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • আগে ছিল ব্যবসায়ী সমিতির পুজো। পরবর্তীকালে সেই পুজোই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজো হিসেবে পরিচিত হয়। এবার সেই পুজো কীভাবে হবে? সেই নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। প্রতিবার তৃণমূল সাংসদ পুজোয় অংশ নেন। আরতির সময় কল্যাণকে হাউহাউ করে কাঁদতেও দেখা গিয়েছে। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের পালাবদলের পর সেই পুজো ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। রথের দিন প্রতি বছর খুঁটিপুজো হয়। এবার সেই খুঁটিপুজোও হয়নি। এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোনও কথা বলেননি বলে প্রাথমিক খবর। যদিও রাজ্যের মন্ত্রী, শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য চাইছেন, দীর্ঘদিনের পুজো রীতিনীতি মেনেই হোক।

    শ্রীরামপুরে ৫ ও ৬ পল্লি গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির পুজো এলাকার অন্যতম প্রাচীন পুজোগুলোর মধ্যে একটি। আরএমএস ময়দানে ধুমধাম করে এই পুজো হয়। অতীতে ব্যবসায়ী সমিতির তরফ থেকে এই পুজোর আয়োজন হত। চাঁদা তুলে হত পুজো। ২০০৯ সালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ হওয়ার পর থেকে ওই পুজোর আরও ধুমধাম করে শুরু হয়। সাংসদ নিজে পুজোতে উপস্থিত থাকেন। বিগত প্রায় ১২ বছর ধরে সেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত তৃণমুল সাংসদ। মাতৃ আরধনায় তাঁকে দেখা যায়। পুজোর দিনগুলিতে দেবীর আরতির সময় কল্যাণকে কাঁদতেও দেখা গিয়েছে।

    অন্যান্য বছর রথের দিন খুঁটি পুজো করেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পাঁচটা দিন যেন চাঁদের হাট বসে। অত্যাধুনিক থিমের ছোঁয়ার সঙ্গে সাবেকি প্রতিমা দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন প্রতি বছর। সাংসদ নিজে পুজোও করেন। কিন্তু এবার এখনও পুজো নিয়ে কমিটির তরফে তেমন কোনও উচ্চবাচ্যও দেখা যায়নি! যারা বহু বছর আগে চাঁদা তুলে পুজো করতেন, তাঁরা অপেক্ষায়। দিশেহারা হয়ে প্রধান পৃষ্ঠপোষক থেকে শুরু করে সভাপতি দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ব্যবসায়ী সমিতি। কিছুদিন আগে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কল্যাণবাবু প্রথমে কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও তারপরও কোনও কথা বলেননি, এমনটাই দাবি ব্যবসায়ী সমিতির।

    এক পুজো উদ্যোক্তা বলেন, “আমরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি গৌড়মোহন দে-কে পুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তার কাছে গেলে তিনি বলছেন ব্যস্ত আছি। তাই পুজো নিয়ে টালবাহানা চলছে।” তিনি আরও জানান, “পুজো হবে, হয়তো আর এত জাঁকজমক হবে না, তবে আমরা করব।” গৌরমোহন বলেন, “সাংসদ আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি ওদের থেকে সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছি। বসে সবটা ঠিক করব।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)