আবাসের লাখ লাখ টাকা স্ত্রী ও নিজের ব্যাঙ্কে! নোটিস পেয়েই ফেরত দিতে ছুটলেন তৃণমূল নেতা
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
আবাস যোজনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাঁর অ্যাকাউন্টেই নয়, স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও টাকা ঢোকার অভিযোগ। প্রশাসনিক তদন্তে ধরা পড়ার পরই টাকা ফেরত দিতে হাজির পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) মঙ্গলকোটের তৃণমূল নেতা তাপস কেশ। নোটিস পাওয়ার পর বিডিও অফিসে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নগদ ফেরত দিতে আসেন তৃণমূল নেতা তাপস। প্রশাসন থেকে তাঁকে সরকারের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলকোটের কুন্দা গ্রামের বাসিন্দা তাপস কেশ। তাঁর বিরুদ্ধে আবাসের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগেই তাপসের বিরুদ্ধে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার পড়েছিল এলাকায়। সেই পোস্টারে আবাস প্রকল্পের টাকা ফেরতের দাবিও তোলা হয়েছিল। বুধবার তিনি ও তাঁর স্ত্রী-দু’জনের অ্যাকাউন্টে আসা দু’জন উপভোক্তার মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বিডিও অফিসে জমা দেন। তাপস কেশের দাবি, আবাস প্রকল্পের দুই উপভোক্তার অর্থ ভুলবশত তাঁর এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে এসেছিল। সেই টাকাই প্রশাসনের কাছে ফেরত দিয়ে আসেন। তাপস কেশ বলেন, “২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কুন্দা গ্রামের বাসিন্দা তোতন মাঝির আবাস যোজনার টাকা আমার অ্যাকাউন্টে এসেছিল। সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। একইভাবে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অন্য মঙ্গলকোট একজনের যে টাকা এসেছিল, সেটিও ফেরত দিচ্ছি।”
মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষ প্রায় দু’হাজার নামের তালিকা প্রশাসনের কাছে দাখিল করে ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি করেন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোট ব্লকে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কৈচর-১-সহ একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের নামে বরাদ্দ অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষ বলেন, “টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আরও অনেকে বিডিও অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা চাই প্রকৃত উপভোক্তারাই তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পান।”