রাস্তা বন্ধ করে ২১ জুলাই, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র বিরুদ্ধে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অবমাননা। ২১ জুলাই ক্যাথিড্রাল রোডের সভা চলাকালীন কালীঘাট তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা রাস্তার দু’দিকেই ভিড় করেন। তার ফলে পুরো রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। এটি হাই কোর্টের অবমাননা, এমনই অভিযোগ তুলে কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল পুলিশ। এই ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেই হেস্টিংস থানার এক সাব ইন্সপেক্টর হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে, ২০ জুলাই রাতে কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চের উপর হামলা চালানো হয়, এমন অভিযোগ তুলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেই পুলিশ হেস্টিংস থানায় অন্য একটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, হাই কোর্ট কালীঘাট তৃণমূলকে ক্যাথিড্রাল রোডে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভার অনুমতি দেওয়ার সময় নির্দেশ দেয়, একদিকে সভা হবে। রাস্তার অন্যদিক দিয়ে যেন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কার্যত দেখা যায়, সভা শুরু হওয়ার পর ক্যাথিড্রাল রোডে কর্মী ও সমর্থকরা শুধু ওই রাস্তার পূর্বদিকের অংশে নয়, পশ্চিমদিকের অংশেও ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। তার ফলে ওই রাস্তায় আর যান চলাচল করতে বাধা পায়। পুলিশ বাধ্য হয় ক্যাথিড্রাল রোডের বদলে ভিক্টোরিয়ার সামনে দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে। এর ফলে যান চলাচল ব্যহত হয়। পুলিশের দাবি, এভাবেই কালীঘাট তৃণমূল হাই কোর্টের নির্দেশ না মেনে আদালতের অবমাননা করেছে। হেস্টিংস থানার পুলিশের পক্ষে ২১ জুলাইয়ের ওই সমাবেশের পক্ষে কালীঘাট তৃণমূলের আহ্বায়ক ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রাস্তা আটকে রাখা, জেনেশুনে সরকারি তথা আইনসম্মত নির্দেশ অমান্য করার ধারার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এর তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই সমাবেশের আহ্বায়ক ও আয়োজক যাঁরা ছিলেন, পুলিশ তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে কালীঘাট তৃণমূল দফতরে চিঠিও দিতে পারে পুলিশ। এদিকে, অন্য একটি অভিযোগে পুলিশ জানিয়েছে, ২০ জুলাই রাত দশটা নাগাদ ১০-১৫ জন যুবক বাইকে করে সভার কাছে আসে। স্লোগান দিতে দিতে অশান্তি করে ও হামলা চালায়। একটি ব্যানার ছিঁড়ে দেয়। পুলিশ তাদের তাড়া করে। দু’টি বাইক ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ব্যানার ও দু’টি বাইক উদ্ধার করেছে। তারই সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।