পুরানো চিটফান্ড প্রসঙ্গ তুলে একযোগে তৃণমূলের পাশাপাশি এবার সিপিএমের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বুধবার বিধানসভা অধিবেশনে পুলিশ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। আর সেখানেই পুরান চিটফান্ডের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের পাশাপাশি একহাত নিলেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজারদেরকেও। তিনি বলেন, ”সিপিএম ছিল চিটফান্ডের ক্যাম্পেনার।” এই প্রসঙ্গে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ”ত্রিপুরার সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও (পড়ুন-মানিক সরকার) ছিলেন, আর এখানে যাঁরা বড় বড় জ্ঞান দিচ্ছেন, তাঁরাও ছিলেন। আমি সব বের করেছি।” তৃণমূলের সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিএমকেও যে কোনও অংশে ছাড় নয়, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তাঁর বক্তব্যে এদিন উঠে এসেছে বামেদের বিপুল সম্পত্তির কথাও।
বাম আমলের শুরু হলেও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জমানায় বাংলায় চিটফান্ডের রমরমা হয়। এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে একের পর এক তৃণমূলের নেতা গ্রেপ্তার হয়। যদিও বারবার এই ইস্যুতে বামেদের আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ত্রিপুরায় রোজভ্যালির বাড়বাড়ন্ত নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আক্রমন শানিয়েছেন তিনি। রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুন্ডুর কথা তুলে তোপ দেগেছেন। বদলের বাংলায় চিটফান্ড ইস্যুতে যেভাবে এদিন একযোগে তৃণমূল এবং বামেদের আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বামেদের বিপুল সম্পত্তি প্রসঙ্গ তুলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”তৃণমূল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি করেছে। সিপিএম রাজনৈতিক দুর্নীতি করেছিল।” এই প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের বিপুল প্রাসাদের কথা তুলে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ”সিপিএম টাকা তুলে যে পরিমাণ পার্টি অফিস করেছে, ইরাকে অত প্রাসাদ সাদ্দাম হোসেনেরও ছিল না।” মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে পালটা জবাব দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ”এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমকে টেনে বিষোদ্গার করতেন। তখন শুভেন্দু ছিলেন মমতার দলের সাংসদ এবং মন্ত্রী। এখন তিনি বিজেপিতে। সিপিএমকে এখন তিনি টানছেন। সেইসঙ্গে তৃণমূলকেও টানছেন, যে দলের হয়ে তিনিও মন্ত্রিত্ব করেছেন।”