• অবৈধ দখলদারদের ধাক্কা! আধার কার্ড বাসস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়, রায় হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • এবার হাই কোর্টে জোর ধাক্কা খেলেন দখলদাররা। বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে আধার কার্ডকে গ্রহণ করা হলেও সেটা চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়। একটি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ মামলায় এই রায় শোনাল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন কি না, তার প্রমাণ হিসাবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। হাই কোর্টের মতে, কেন্দ্র ও সুপ্রিম কোর্ট তাদের একাধিক নির্দেশে জানিয়েছে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি কেবলমাত্র একটি পরিচয়পত্র। আদালত জানিয়েছে, বাস্তবে বসবাসের ঠিকানা হিসাবে অনেকে আধার ব্যবহার করেন। আধার বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কারণ, আধার তৈরির আগে ঠিকানার তথ্য যাচাই করা হয়। আদালত জানিয়েছে, শুধু আধার নয়, ভোটার কার্ড, গ্যাসের বিল-সহ অন্যান্য সরকারি নথিও কোনও ব্যক্তির ঠিকানার প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

    মামলার বয়ান অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড ও ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টের আবাসন ভাঙতে চান বেআইনি দখল করে থাকার জন্যে। তাঁরা প্রায় ৫০০টির বেশি আবাসিক কোয়ার্টার ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ওই কোয়ার্টারগুলিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। তাঁদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ নোটিস বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদ ও ভাঙার কাজ শুরু করতে চান। হাই কোর্টের একক বেঞ্চ জানায়, বাসিন্দারা কী ভাবে ওই কোয়ার্টারে এসেছেন, তার স্পষ্ট প্রমাণ নেই। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না যে তাঁরা বৈধ ভাবে ওই কোয়ার্টারে থাকেন। একক বেঞ্চে আবেদন খারিজ হলে ডিভিশন বেঞ্চে যান বাসিন্দারা। আদালতে বন্দর কর্তৃপক্ষের যুক্তি, আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখিয়ে কেউ বসবাসের দাবি করতে পারেন না। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অবৈধ দখলদার ঘোষণা করার আগে আইন মেনে তদন্ত হওয়া উচিত। হাই কোর্টের রায়, কেন ওই সকল বাসিন্দাদের অবৈধ দখলদার মনে করা হচ্ছে বা কেন তাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ওই সব পরিবারকে নোটিস দিতে হবে। শুনানিতে প্রত্যেককে তাঁদের যুক্তি-প্রমাণ দেখাতে পারবেন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তবেই ভাঙার মতো পদক্ষেপ করা যাবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)