কৃষকদের জন্য ভরতুকি, অঙ্গনওয়াড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, প্রতি মাসে বিল, বড় ঘোষণা শুভেন্দু সরকারের
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
রাজ্যে বিজেপি সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ পর থেকেই কার্যত একের পর এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যবাসীর স্বার্থে বিদ্যুৎ সহ একাধিক বড় ঘোষণা নিয়ে বিধানসভায় হাজির মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের যে প্রকল্পগুলি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলার মানুষ, এবার এই প্রকল্পগুলির আওতায় রাজ্যকে যুক্ত করে ‘বাংলার নতুন কারিগর’ হিসেবে পরিকল্পনা বুনছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
বিধানসভার অধিবেশনে তিনি ঘোষণা করেন, “পিএম ই-ড্রাইভ প্রকল্পের অধীনে নোডাল সংস্থা হিসেবে WBACDCL রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চার্জিং পরিকাঠামো গড়ে তুলবে। এই চার্জিং স্টেশনগুলিতে প্রাইভেট ও বাণিজ্যিক ই-গাড়ি গাড়িগুলি চার্জিংয়ের সুযোগ পাবে।” বিদ্যুতে খরচের ক্ষেত্রে কৃষকদেরও বড় স্বস্তির খবর দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “কৃষকদের সেচের কাজে সৌর শক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।” সেই সঙ্গে ডিভিসি-পাঞ্চেৎ মিলিয়ে ১০০০ মেগা ওয়াটের মেগাওয়াট পাওয়ার স্টোরেজ পরিকল্পনা ও বক্রেশ্বরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন ইউনিট হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের আওতায় ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ৯ সীমান্ত পাশ্ববর্তী জেলাগুলিতে বিদ্যুৎ দপ্তর অংশগ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি। যার জন্য ১৫০ কোটি অতিরিক্ত বরাদ্দ ঘোষণাও করা হয়েছে।
এদিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্যও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ” বাংলায় ৫৪ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, এই কেন্দ্রগুলির অবস্থা শোচনীয়। বহু জায়াগায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, আলো-পাখা দূরের কথা। এবার সেই আইসিডিএস সেন্টারগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেবে সরকার। আলো-পাখাও সরবরাহ করবে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর।” পাশাপাশি ১ হাজার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কথাও এদিন ঘোষণা করেন শুভেন্দু। রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তরের গ্রাহকদের জন্য আর ত্রৈমাসিক বিল নয়, আগামী জানুয়ারি থেকে গ্রাহকরা মাসিক বিল পাবেন বলেও ঘোষণা করেন তিনি। “গ্রামীণ এলাকায় নাইট মোবাইল ভ্যান দ্বিগুণ হবে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে দ্বিগুণ লোক থাকবে।” বলেও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ডোমেস্টিকের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয় বলেও বামেদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারিও ছুড়ে দেন তিনি।