‘নির্দেশের দরকার নেই, যা করার করবেন’, ধর্ষণ রুখতে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ শুভেন্দুর
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
নারী নিগ্রহ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুভেন্দু প্রশাসনের। শুধু মুখেই বলা নয়, বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে তা কাজেও প্রমাণ দিয়েছে পুলিশ। আগামিদিনেও রাজ্যে এমন কোনও নক্কারজনক ঘটনা ঘটলে পুলিশকে চরম পদক্ষেপের নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর। সেক্ষেত্রে কারও নির্দেশের প্রয়োজন নেই। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ মুখ্যমন্ত্রীর।
পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটা একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “কামদুনি ছোট্ট ঘটনা। বারাসত শরীর থাকলে যেমন সর্দিকাশি জ্বরজারি হয় তেমন একটু আধটু রেপ-টেপ হয়। কাকদ্বীপে ফুল রেপে ১০ হাজার, হাফ রেপে ৫ হাজার। হাঁসখালির ঘটনা মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ময়নাগুড়ির ঘটনা লাভ অ্যাফেয়ার্স। আর জি কর ওঁর বাবা-মা চাইলে তো ১০ লাখ দিতে পারি। এই তো ছিল নারী নিরাপত্তা। আর নিরাপত্তা কীভাবে দিতে হয়, ঘটনা ঘটলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় বারুইপুরের ছোট্ট মেয়ে, প্রমাণ করে দিয়েছে সরকার। পুলিশের মিটিংয়ে বলি আমরা কেউ ভারতপিতা বলি না মাতা বলি। কোনও মহিলার উপরে কিছু ঘটলে কারও নির্দেশের উপরে অপেক্ষা করবেন না। যা ইচ্ছা হয় করে দেবেন। আপনাকে ঢাল হিসাবে রক্ষা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
ফাঁসির নির্দেশ হলেও কেন তা কার্যকর হল না সে প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “মাটিগাড়া, কুলতলি ফাঁসির আদেশ হল। কার্যকর করতে পারলেন না কেন? হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, বাড়ির লোক রাষ্ট্রপতির কাছেও যেতে পারেন। যদি দিল্লিতে নির্ভয়ার ক্ষেত্রে ৪ জনের চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর করতে পারে, তাহলে আমাদের রাজ্যে ১৮টি মামলায় কেন ফাঁসির নির্দেশ কার্যকর করতে পারলেন না? কোনও মনিটরিং নেই। মিডিয়াতে এসে ভাষণ দিয়ে তু ঘিচ মেরি ফটো। এই করতে করতে রাজ্যটাকে রসাতলে দিয়েছে।”
ক্ষমতায় আসার পরই আর জি কর ফাইলস খুলেছে শুভেন্দু প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কী করছি শুধু দেখতে থাকুন। নারী নির্যাতন সে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ কিংবা শিশু অত্যাচার হোক – এই সরকার আইনের মাধ্যমে কত দূর যেতে পারে তা দেখতে থাকুন। আর জি করে তিন আইপিএস অফিসার। তাঁদের মধ্যে একজন এডিজি পদমর্যাদার। সহজ নয়। সাসপেন্ড করতে হলে চার্জগঠন করতে হয়। অভয়ার ক্ষেত্রে এসব ভাবিনি। দ্রুততার সঙ্গে সাসপেন্ড করেছি। সন্দীপ ঘোষ, বিরুপাক্ষদের সাসপেন্ড করেছি। আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে তিনি ফাইল চেপে রেখেছিল। আমি এনওসি দিয়ে দিয়েছি।” বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যে নারী সুরক্ষায় দুর্গারক্ষা স্কোয়াড, মহিলা থানা, হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।