• বিশ্বভারতী চত্বরে জনগণনার দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরাই! কেন এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের?
    প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • আসন্ন জনগণনাকে সামনে রেখে বীরভূমে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি এবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও গণনার কাজ পরিচালনায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ। ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক এবং প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রেখে সেখানে বাইরের গণনাকর্মীর বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    প্রশাসন সূত্রের খবর, জনগণনা কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চার্জ অফিসার, সুপারভাইজার এবং গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ চলছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে ডিজিটাল মাধ্যমে সেল্ফ ইনিউমারেশন বা স্ব-তথ্য নথিভুক্তিকরণের প্রথম পর্ব। এরপর ধাপে ধাপে মূল জনগণনার কাজ এগোবে। সেই প্রক্রিয়ার আওতায় বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসও থাকবে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। ফলে এই এলাকায় নির্ভুল ও নির্বিঘ্নভাবে তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই বিশ্বভারতীর পাঁচ থেকে আটজন কর্মীকে দায়িত্বে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কোন কর্মীরা এই দায়িত্ব পালন করবেন, সেই তালিকা তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই। 

    প্রশাসনের একাংশের মতে, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ বাসিন্দাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মী, গবেষক বা তাঁদের পরিবারের সদস্য। ফলে পরিচিত কর্মীরা দায়িত্বে থাকলে তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে বাইরের লোকের অবাধ প্রবেশের প্রয়োজনও কমবে, যা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দিক থেকেও সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। পরিচিত পরিবেশে কাজ হওয়ায় তথ্যের যথার্থতাও বজায় থাকবে বলে প্রশাসনের আশা। এই উদ্যোগকে ঘিরে আরেকটি বিষয়ও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য প্রশাসন এবং বিশ্বভারতীর সম্পর্ক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলছে। জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ সেই পরিবর্তিত সম্পর্কেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ”এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভাল। আমাদের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে এবং আশা করি সেখান থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তই বেরিয়ে আসবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)