'আরশোলা'দের বিক্ষোভে কবে যোগ দিতে পারেন মমতা? সঙ্গী হবেন অভিষেকও
আজ তক | ২৩ জুলাই ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের জেরে উত্তাল দিল্লি। মাত্র ৪ মাস আগেও যে দলের কোনও অস্তিত্ব ছিল না, সেই দলের বিক্ষোভের ঘটনাতেই নড়ে উঠেছে রাজধানী। গোটা দেশের নজর এখন রয়েছে যন্তর-মন্তরের দিকে। নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে আন্দোলন করছে CJP। এবার জানা যাচ্ছে, সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে চলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ও।
সূত্রের দাবি, আগামী দিন সাতেকের মধ্যে ককরোচ পার্টির আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য দিল্লি যেতে পারেন মমতা। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গী হবেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ও। জানা গিয়েছে, ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের কারণে এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ককরোচ-এর প্রতিবাদে যেতে পারেননি। কিন্তু একুশের অনুষ্ঠান মেটার পরেই এবার দিল্লি যেতে চাইছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে মমতা যে ককরোচের আন্দোলনের পাশে আছেন, তা গতকালই স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভা থেকে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে তিনি যাবেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজন হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দেব। আমরা ইতিমধ্যেই তাদের সমর্থন করেছি। ভবিষ্যতেও তা করে যাব।"
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন থেকে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন শুরু করে CJP। পরে সেই আন্দোলন দেশের একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের অভিযোগ, NEET ২০২৬ প্রশ্নফাঁস, CBSE দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল বিভ্রাট এবং CUET পরীক্ষায় বিলম্ব-সহ একাধিক ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা সামনে এসেছে এবং তার দায় শিক্ষা মন্ত্রককেই নিতে হবে।
ইতিমধ্যে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলিও। মঙ্গলবার ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ওয়াটার ক্যাননের প্রতিবাদে কংগ্রেস নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করে। এই বিক্ষোভে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পবন খেরা, পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর হুডা এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরে সেখান থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ।
রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ জানান, তিনি জবাবদিহির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দিকে যাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিন আগেই পড়ুয়াদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। কিন্তু এর দায় নিতে বা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ।