যেখানে থমকে যেত গাড়ি, সেখানেই এখন চোখ ফেরান দায়! অচেনাই হয়ে যাচ্ছে ডুয়ার্সের এই বিখ্যাত ঠিকানা
News18 বাংলা | ২৩ জুলাই ২০২৬
: যে দৃশ্যে থমকে যেত গাড়ি, আজ সেই জায়গায় চোখ ফেরাতে চাইছেন না মানুষ! মেঘ-পাহাড়ের স্বর্গে এ কী দশা! ডুয়ার্সের এই জনপ্রিয় ভিউ পয়েন্টের বর্তমান অবস্থা দেখলে চমকে উঠবেন। একসময়ের মাস্ট স্টপ যেন এখন স্কিপ পয়েন্ট করতে চাইছেন পর্যটকরা। ডুয়ার্সে পা রাখলেই পর্যটকদের গাড়ির চাকা যেন একপ্রকার বাধ্য হয়েই থমকে যায় চালসার এই বিখ্যাত ভিউ পয়েন্টে। এখানে দাঁড়ালেই চোখের সামনে যেন এক মায়াবী ক্যানভাস ফুটে ওঠে। এক ফ্রেমে ধরা দেয় গরুমারা অভয়ারণ্যের দিগন্তবিস্তৃত সবুজ চাঁদোয়া, বুক চিরে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা রেললাইন আর দূরে মাথা উঁচু করে থাকা মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি। ডুয়ার্স থেকে কালিম্পং যাওয়ার পথে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে প্রথম আকর্ষণই হল এই জায়গাটি।
কিন্তু আজ সেই মন ভোলানো আকর্ষণ অনেকটাই ম্লান। সবুজের সমারোহের মাঝে এখন শুধুই চরম অবহেলা আর ভগ্নদশার স্পষ্ট ছাপ। রক্ষণাবেক্ষণের চূড়ান্ত অভাবে পর্যটকদের এই প্রিয় গন্তব্যটি আজ কার্যত বেহাল। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক-আবর্জনা, ভাঙাচোরা বসার জায়গা, ভেঙে পড়া রেলিং আর চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। অনেকেই আক্ষেপের সুরে জানাচ্ছেন, এমন একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গার এই ভগ্নদশা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। চালসার এই পথ ধরেই প্রতিদিন সামসিং, রকি আইল্যান্ড,সুনতালেখোলা-সহ ডুয়ার্স ও কালিম্পং জেলার একাধিক জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পাড়ি দেন হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ। ফলে এই ভিউ পয়েন্টের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের গলায় আজ শুধুই হতাশার সুর।
তাঁদের কথায়, “প্রশাসন যদি এই পর্যটন কেন্দ্রটির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকে একটু নজর দিত, তবে এলাকার চেহারাটাই বদলে যেত। পর্যটকদের ভিড় বাড়লে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক উপার্জনের পথ আরও সুগম হত।” বর্ষায় ডুয়ার্সের রূপ যেন ফেটে পড়ে। চা-বাগান, পাহাড়ে মেঘের লুকোচুরি আর নদীর প্রবল গর্জন সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মনমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়। বর্তমানে বর্ষার কারণে গরুমারা-সহ ডুয়ার্সের জঙ্গল বন্ধ থাকলেও প্রকৃতির এই সবুজে ভরা তরতাজা, প্রাণবন্ত অপরূপ টানে পর্যটকদের ভিড় একটুও কমেনি।
কিন্তু চালসা ভিউ পয়েন্টের এই চরম অপরিষ্কার ও অযত্নে পড়ে থাকা চেহারা সেই নিরবচ্ছিন্ন আনন্দে বড়সড় বাধা সৃষ্টি করছে। এখন পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা সকলের মনেই একটাই প্রশ্ন। ডুয়ার্সের পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই ভিউ পয়েন্টের দিকে প্রশাসনের নজর কি আদৌ পড়বে? নাকি একরাশ অব্যবস্থা আর চূড়ান্ত অবহেলার আড়ালেই ধীরে ধীরে চিরতরে হারিয়ে যাবে প্রকৃতির এই অনন্য সুন্দর সৃষ্টি?