• প্রশাসনের কাছে ভুল বার্তা দিয়েছেন 'উনিই': শুভেন্দু
    আজকাল | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া: বিধানসভার মঞ্চকে কার্যত রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের বাজেটের জবাবি ভাষণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়ে নারী নিরাপত্তা, আরজি কর-কাণ্ড, প্রশাসনিক ভূমিকা, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল কামদুনি, বারাসত, হাঁসখালি ও আরজি কর হাসপাতালের মতো বহুচর্চিত ঘটনা।

    নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অতীতের বিভিন্ন মন্তব্যের উল্লেখ করে শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাকে বারবার হালকা করে দেখানো হয়েছে। কামদুনি, বারাসত, হাঁসখালি এবং আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রকাশ্য মন্তব্য প্রশাসনের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই কারণেই রাজ্যে নারী নিরাপত্তা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো বিভিন্ন মন্তব্যের স্মৃতি উস্কে দিয়ে শুভেন্দু এ দিন নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কামদুনিকে আপনারা ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেছিলেন। বারাসত প্রসঙ্গে মন্তব্য ছিল- ‘শরীর থাকলে যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনই একটু-আধটু রেপ-টেপ হয়’! ময়নাগুড়ির ঘটনাকে ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ আখ্যা দিয়েছিলেন। আর আর জি করের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, ‘ওর বাবা-মা চাইলে ১০ লাখ দিতে পারি’!”

    পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা নিয়েও সরাসরি প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তদন্ত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অনুমোদন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থার চাওয়া প্রশাসনিক ছাড়পত্রও বিলম্ব ছাড়াই দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এদিন তৃণমূল ও সিপিএম- দুই দলকেই একসঙ্গে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছিল, আর তৃণমূল সেই ব্যবস্থাকেই আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। 

    দুর্নীতির মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট (FRT) জমা পড়া একাধিক মামলার পুনর্তদন্তের ইঙ্গিতও দেন তিনি। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, চার্জশিট, বিচার এবং আইনি পদক্ষেপ থেকে সরকার পিছিয়ে আসবে না।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ ঘিরে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী সদস্যরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানালেও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট বিতর্কের শেষ দিনে তাঁর এই রাজনৈতিক আক্রমণ বিধানসভার উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা।
  • Link to this news (আজকাল)