১৬ বছরের আইনি লড়াই ও স্বেচ্ছানির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে ভারতে ফিরতে চলেছেন IPL-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদী। মঙ্গলবার ২০০৯-এর দক্ষিণ আফ্রিকা আইপিএল নিয়ে ফেমা মামলায় ইডির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তার পরেই একটি ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে ললিত বলেন, ‘অবশেষে সত্যিটা সামনে এল।’
২০০৯-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল আয়োজনের সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে ললিত মোদীর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইডি।
বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছিল। এটাকে FEMA লঙ্ঘন হিসাবে দেখা উচিত নয়। দেরিতে হলেও সেই টাকা শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তাই ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মুনিশ্বর নাথ ভাণ্ডারি এবং সদস্য রাজেশ মালহোত্রার বেঞ্চ ইডি-র অভিযোগ খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে তাঁরা জানান, ললিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও নেই।
ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পরে একটি ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে উচ্ছ্বসিত ললিত বলেন, ‘খুব খুশি হয়েছি। ১৬ বছর ধরে লড়েছি। এতদিন ধরে যে কথাটা বলে আসছি, সেটাই প্রমাণিত হলো।’ ললিত সাফ জানিয়ে দেন, তিনি যা করেছেন সব আইপিএলের জন্য। তাঁর কথায়, ‘আইপিএল আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তার জন্য যা করার করেছি।’ এর পরেই দেশে ফেরার কথা জানিয়ে দেন তিনি। ললিত বলেন, ‘এ বার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই। দেশে ফেরার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’
সব ঠিক থাকলে চলতি বছরেই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন ললিত মোদী। ওই ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে হবে। অক্টোবরে আমার মেয়ের সন্তান হওয়ার কথা। সব ঠিক থাকলে তার পরেই দেশে ফিরব।’
ললিত মোদীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ত্ব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি বরাদ্দে অনিয়ম, ২০১০ সালের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিডে কারচুপির অভিযোগ এবং কোচি টাস্কার্স-কেরালা বিতর্কে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ। BCCI তাঁর উপরে আজীবনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তা-ও বহাল রয়েছে।
২০০৯ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা আইপিএল-সংক্রান্ত FEMA মামলায় ট্রাইবুনাল তাঁর বিরুদ্ধে ইডির অভিযোগ খারিজ করার পর তিনি ১৬ বছর পর ভারতে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল আয়োজনের সময় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে ইডি তদন্ত শুরু করেছিল।
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, বিদেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় FEMA লঙ্ঘনের পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তাই ইডির অভিযোগ ও জরিমানা খারিজ করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে ভারতে ফিরবেন।
২০১০ সালে দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন আইনি মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করছেন।