• নতুন নিয়োগ ২০ হাজার, পুলিশ ঘুষ নিলে এক ফোনেই অভিযোগ, বিধানসভায় ঘোষণা শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশের কোনও উন্নতি হয়নি। পরিবর্তে রয়ে গিয়েছে হাজারও ফাঁকফোঁকর। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুলিশ বাজেটের জবাবি ভাষণে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সরকার বদলের পর খোলনলচে বদলে পুলিশকে আরও ‘স্মার্ট’ করে তোলাই লক্ষ্য। আর সে কারণে কর্মী শূন্যতা দূরীকরণে পুলিশে ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। ‘ঘুষখোর’ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোলরুমও খোলা হচ্ছে। 

    শুভেন্দুর দাবি, “তৃণমূল সরকার মতামত দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। ১৩ বছর স্বরাষ্ট্রদপ্তরের বাজেট নিয়ে বঞ্চিত ছিল। আগের সরকার বাজেট গিলোটিনে পাঠাত। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মানেনি আগের সরকার। পুলিশ দপ্তরকে যতটা সম্ভব নিচে নামানো হয়েছে। বছরের পর বছর পুলিশে কোনও নিয়োগ হয়নি।” সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও পূর্বতন সরকারকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমি দীঘা থানায় গিয়ে দেখলাম ৪০০ সিভিক ভলান্টিয়ার। এসআই ২, এএসআই ৩, ১৫ কনস্টেবল। জিজ্ঞাসা করলাম চালান কি করে? শুধু সিভিক নিয়োগ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে নিযুক্তরা সব কথা শুনে চলবেন না। তাই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছে। কোনও যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ছাড়াই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেছে। শুধুমাত্র ওরা রাজনৈতিক আনুগত্য দেখাবে বা টাকার বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক এবং তোলা তোলার কাজে লাগানো হয়েছে তাদের।”

    রাজ্য পুলিশে মোট পদ ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৪। এখনও পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৭৩ পদ ফাঁকা। পুজোর আগেই রাস্তায় নামবে ১৬ হাজার কনস্টেবল। সবমিলিয়ে মোট ২০ হাজার নিয়োগ করা হবে। শুধু শূন্যপদই নয়। থানায় থানায় পরিকাঠামোর উন্নয়নও হয়নি বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “কলকাতা পুলিশে সিস্টেম কিছুটা আছে। আর বাকি সব জিরো। পুলিশ বারাক, রান্নাঘর, ডিএ, পে কমিশন, বদলি নীতি নেই। আপনি যেদিকে তাকাবেন সেদিকে অন্ধকার।” 

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি ইস্য়ুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুভেন্দু প্রশাসনের। পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও রেয়াত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হবে। ওই কন্ট্রোলরুমের হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে অভিযোগ। ফোন পেলেই তৎক্ষণাৎ নেওয়া হবে ব্যবস্থা। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)