অন্ধ্রপ্রদেশের পর এবার ফের বঙ্গে করোনার থাবা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৪। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিন করোনা আক্রান্ত। অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি আরও এক কিশোর। সকলেরই মূল উপসর্গ জ্বর-শ্বাসকষ্ট-গলাব্যাথা-মারাত্মক কাশি। যা নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে রাজ্যবাসীর।
কোভিড ভাইরাস আক্রমণ করে শ্বাসতন্ত্রে। সংক্রমণের প্রধান উপসর্গ গলা ব্যাথা, জ্বর, কাশি। এমন উপসর্গে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা আখছার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘সেলফ মেডিকেশন’-এর এই প্রবৃত্তি সাঙ্ঘাতিক। ভাইরাস ঘটিত অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কোনও লাভ হয় না। উলটে অযথা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শরীরকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স করে তোলে। পরে প্রয়োজনে আর কাজ করবে না অ্যান্টিবায়োটিক।
ফর্টিস হাসপাতালের ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শুভজিৎ সেনের কথায়, “কোভিডের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনও ভূমিকা নেই। বাড়িতে কারও জ্বর, কাশি দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাবেন না। কোভিড পরবর্তী সময়ে সেকেন্ডারি ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন বা পরবর্তী ব্যাকটিরিয়াজনিত সংক্রমণ দেখা যায়। দু’একদিনের মধ্যে হাইগ্রেড ফিভার, শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। সে সময় চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। আগে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে চিকিৎসককে সমস্যায় পড়তে হবে তখন।”
কোভিডের বাড়বাড়ন্তে সতর্ক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোভিডের মতো উপসর্গ থাকলে রোগীর ‘আপার রেসপিরেটরি বায়োফায়ার টেস্ট করা হচ্ছে’। এই টেস্টের প্যানেলে অনেকগুলো ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। ডা. শুভজিৎ সেনের কথায়, শরীরে কোভিড ছাড়াও, ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনো, অ্যাডিনো ভাইরাস, ঢুকলে তা চিহ্নিত করা যায় এই টেস্টের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছরের এক শিশু। হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিকাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন, বর্ষাকালের এই সময়টায় ভাইরাসের বাড়াবাড়ি দেখা যায় ভাইরাস ঘটিত অসুখের। এবার কোভিড ভাইরাসের বাড়াবাড়ি দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তও।