• ‘সভা, মিছিল করতে দিচ্ছে না, প্রাণের টানে কর্মীরা আসছেন’, তারামণ্ডলে একুশের সভাস্থল ঘুরে অভিযোগ মমতার
    প্রতিদিন | ২১ জুলাই ২০২৬
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল রবীন্দ্রসদনের কাছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পেয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়েছে কালীঘাট। মঞ্চ ও অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ। সোমবার বিকেলের পর তারামণ্ডলের একুশের সভাস্থল ঘুরে দেখলেন নেত্রী। তাঁদের সভা, মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা দূরদূরান্ত থেকে কলকাতার‍ সভায় যোগ দিতে আসছেন, তাঁদের থাকার জায়গাও দেওয়া হচ্ছে না! এমনই অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ২১ জুলাই নিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। ধর্মতলায় সভা করা যাবে না জানিয়ে রাজ্যের কাছে বিকল্প জায়গা জানতে চেয়েছিল আদালত। আদি তৃণমূলও বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দেয়। তার মধ্যে তারামণ্ডলও ছিল। তারপরই বিচারপতি তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেন। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে শর্ত। বিচারপতির নির্দেশ, একধারে মিটিং হবে। অন্য ধারে গাড়ি চলাচল করবে। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় তা দেখবে পুলিশ। ১৮ জুলাই ৪টের মধ্যে আয়োজকদের নাম ও মোবাইল নম্বর জয়েন্ট সিপি হেড কোয়ার্টারকে জানাতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

    গতকাল, রবিবার থেকেই সভাস্থল ঘুরে দেখছেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এদিকে আজ, সোমবার দুপুর থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। তবে বৃষ্টিতে মঞ্চের কাঠের পাটাতন ভিজে একসা। বিকেলের পর সভাস্থল ঘুরে দেখতে তারামণ্ডল চত্বরে গেলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে কালীঘাট পন্থী অন্যান্য নেতারাও থাকেন। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন নেত্রী। দোলা, কুণালদের সঙ্গে কথাও বলেন মমতা। পাশাপাশি অভিযোগও ছুড়ে দেন। ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে তাঁদের কর্মী-নেতাদের সভা-মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না! কর্মী-সমর্থকরা যারা আসবেন, তাঁদের থাকার জায়গা দেওয়া হচ্ছে না! এদিন সেই অভিযোগ করেছেন মমতা। শুধু তাই নয়, সভায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রাণের টানে কর্মীরা আসছেন, জোর গলায় সেই বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।

    এদিন কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চ পরিদর্শন করেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়নার পরিদর্শনের সময় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীদের একাংশের। ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দূর হটো’ স্লোগান ওঠে। প্রসঙ্গত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন। যদিও নয়না এখনও কালীঘাট শিবিরেই রয়েছেন। বিক্ষোভ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিধায়কও। তাঁর কথায়, “আমি কি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্বে নাকি? ওর কথা ওকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসা করুন।” এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসাও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মমতার ডাকে সবাই আন্দোলন করেছেন। গুলি খেয়েছেন। তৃণমূল মানে মমতা।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)