• 'এখনই FIR নয়, ক্ষতিপূরণও নয়'! ২১ জুলাইয়ের শহিদ অসীম দাসের পরিবারের বড় বার্তা
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • : একুশে জুলাইয়ের আগে শহীদ অসীম দাসের পরিবারকে নিজেদের কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। তবে, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শহীদের পরিবার জানিয়েছে, তারা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে। একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিচালনা সংক্রান্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে পারে এবং ক্ষতিপূরণের জন্যও আবেদন করতে পারে।

    এই ঘোষণার পরই প্রতিক্রিয়া জানালেন ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত হুগলির শহিদ অসীম দাসের পরিবারের সদস্যরা। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ‘নো এপিক, নো ভোট’ আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলকাতায় গিয়েছিলেন অসীম দাস। রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

    ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৎকালীন সরকার কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেনি এবং কমিশনের সুপারিশও কার্যকর করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং ক্ষতিপূরণের আবেদনও করতে পারে। এ প্রসঙ্গে শহিদ অসীম দাসের দাদা দিলীপ দাস বলেন, “এখনই নতুন করে অভিযোগ বা ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য আবেদন করছি না। আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

    তিনি আরও জানান, “২০১৪ সালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শহিদ দিবসের মঞ্চে ছিলাম। তারপর আর ওই অনুষ্ঠানে যাইনি। মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, সে বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” দিলীপ দাস বলেন, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যটা ভালোভাবে চালান, সেটাই চাই। অতীতে যিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর প্রতিও আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেও আমি ভালোবাসি। নতুন করে কাউকে দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না।”

    নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি সবজির ব্যবসা করি। পরিবারের দায়িত্ব আমার কাঁধে। এক ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ, মায়েরও শরীর ভালো নয়। কার নির্দেশে গুলি চলেছিল, তা আমার জানা নেই। তবে ভাইকে হারানোর কষ্ট আজও ভুলতে পারিনি।”সেই দিনের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে দিলীপ দাস বলেন, “১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই বুধবার ছিল। ভাই যখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল, তখন আমার মনটা খুব খারাপ লাগছিল। আমি ওকে বলেছিলাম, সেখানে যাচ্ছিস, গুলি চলবে না তো? পরে যখন ওর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেলাম, যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল।” পরিবারের এই প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও তারা আপাতত কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন শহিদ অসীম দাসের দাদা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)