• বাঁশদ্রোণীতে ১৭ বছরের কিশোরের মৃত্যু
    আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার চিত্তরঞ্জন অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৭ বছরের এক নাবালককে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত নাবালকের নাম প্রিন্স অভিরূপ চৌধুরী। এই ঘটনায় নিহতের মায়ের দায়ের করা খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র বা রিহ্যাব সেন্টারের মালিক ও চালকসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ মানসিক উদ্বেগ ও নানা সমস্যায় ভুগছিল ওই নাবালক। ফলে বাড়িতে মাঝেমধ্যেই অত্যন্ত অশান্ত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতো। গতকাল, অর্থাৎ ১৯ জুলাই বিকেলে পরিবারের তরফেই হরিদেবপুরের কবরডাঙা এলাকার ‘কলকাতা সবুজায়ন প্রতিষ্ঠান’ নামে একটি রিহ্যাব সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই সেন্টারের চার কর্মী একটি মারুতি গাড়ি নিয়ে বাঁশদ্রোণীর ব্যানার্জী পাড়ার ওই ফ্ল্যাটে আসে নাবালককে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে কিছুতেই যেতে রাজি হয়নি। অভিযোগ, নাবালক উত্তেজিত আচরণ শুরু করলে ওই কর্মীরা তাকে একপ্রকার জোর করে, মারধর করতে করতে গাড়িতে তোলে।

    এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়। রিহ্যাব সেন্টারের এক কর্মী স্বপন প্রামাণিক নাবালকের বাবাকে ফোন করে জানান যে, তাঁদের ছেলে আচমকাই গাড়ির ভেতর অচৈতন্য হয়ে পড়েছে এবং তার প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত এম.আর. বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়েই আতঙ্কে চিকিৎসালয়ে ছোটেন বাবা-মা। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ওই নাবালককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। নাবালকের মা মৌসুমী চৌধুরীর স্পষ্ট অভিযোগ, চিকিৎসার নামে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে খুন করেছে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মীরা। মায়ের লিখিত বয়ানের ওপর ভিত্তি করে বাঁশদ্রোণী থানা খুনের মামলা রুজু করে চার কর্মী এবং রিহ্যাব সেন্টারের মহিলা মালিক শাশ্বতী মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে।

    যদিও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের দাবি সম্পূর্ণ অন্য। ধৃতদের বক্তব্য, নাবালককে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই তার প্রবল খিঁচুনি শুরু হয়েছিল এবং সে হাত-পা ছুড়ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তারা নাবালকের হাত-পা চেপে ধরে রেখেছিল, তাকে কোনও মারধর করা হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত উত্তেজনার জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বা শ্বাসরোধ হয়েও মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি আদতে ঠান্ডা মাথার খুন, নাকি নিছকই দুর্ঘটনা বা শারীরিক অসুস্থতাজনিত মৃত্যু—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মানসিক অবসাদগ্রস্ত একটি তরতাজা ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় এখন শোকের ছায়া।
  • Link to this news (আজকাল)